শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. শামছুল ইসলাম ওরফে পলাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার সিরাজুল ইসলামের বাড়ি জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে। এর আগেও তিনি একই অভিযোগে গ্রেফতার হন। পরে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হন। এরপর আদালতের আদেশে তিনি আবার যোগ দেন।
সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক শামছুল ইসলাম ওরফে পলাশ মঙ্গলবার বিকেলে শ্রেণিকক্ষেই ওই শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি করে। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানায়। তার পরিবার বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের জানায়। এরইমধ্যে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে ভুল স্বীকার করে এ জন্য ক্ষমা চেয়ে আসেন।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা, আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী বিদ্যালয়ে ছুটে যান।
ঘটনা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর অভিভাবক এসে বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন। আমরা ওই শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনায় বসেছিলাম। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী জানান, ওই শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, ‘এর আগেও এই শিক্ষক একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই শিক্ষককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






