ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাক্ষ্য দিলেন ঘটনার দিন আলিম পরীক্ষার হল পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা আবুল খায়ের। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ সাক্ষ্য নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবুল খায়ের আদালতকে বলেন, “নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দিন পরীক্ষার হলে দেরিতে ঢুকে উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা। এসময় তার কাছে দেরির কারণ জিজ্ঞেস করলে সে আমাকে বলে, ‘বাথরুমে ছিল’। তার গ্রেফতার হওয়ার পর জানতে পারি, নুসরাতকে ছাদে ওঠানোর পর প্রথমে সে (পপি) মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ের ওড়না খুলে পপি। এরপর ওড়নাটি দুই ভাগ করে, যা দিয়ে নুসরাতে হাত ও পা বাঁধা হয়। নুসরাতের হাত পেছন দিয়ে বাঁধার পর কেরোসিন ঢালার গ্লাসটি নুসরাতের হাতে ধরিয়ে দেয় পপি; যাতে বোঝা যায় নুসরাত আত্মহত্যা করেছে।’
আবুল খায়েরের সাক্ষ্য নেওয়া শেষে আগামী রবিবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এর আগে আজ সকালে মামলার প্রধান আসামি সিরাজ উদদ্দৌলাসহ ১৬ জন আদালতে হাজির করা হয়।
এ নিয়ে মামলায় মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দিলেন। এর আগে বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার ।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ জানান, গত ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, গত ২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আদালত আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।
নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।
নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।








