নুসরাত হত্যা মামলায় জেল সুপার রফিকুলসহ সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ

ফেনী প্রতিনিধি
২৯ জুলাই ২০১৯, ১০:২৩আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ১০:২৭

নুসরাত ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় জেল সুপার রফিকুল কাদেরসহ সাত জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (২৮ জুলাই) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।



জেল সুপার ছাড়াও ডেপুটি জেলার মনির হোসেন, কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন, ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী মো. গোলাম মাওলা ও মোশারেফ হোসেনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদীসহ ৫৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয়েছে।
হাফেজ আহাম্মদ আরও জানান, সোমবার (২৯ জুলাই) নুসরাতের বাবা এ কে এম মুসা মানিক এবং অন্য দুই সাক্ষী মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ সেলিমের সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
ডেপুটি জেল সুপার আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘গত ১৬ মে দুপুরে পিবিআই কর্মকর্তারা কারাগারে এসে ওই রেজিস্টার জব্দ করেন। যেখানে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের মামলায় আটক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ ছিল। এ রেজিস্টার কারাগারে প্রতিদিনের সাক্ষাৎকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয় বলে আমার কাছে জিম্মায় রাখি।’
সোনাগাজীর বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা ও মোশাররফ হোসেন আদালতে বলেন, ‘গত ৮ মে পিবিআই কর্মকর্তারা নুসরাত হত্যা মামলার আসামি শামীম, যোবায়ের ও জাবেদকে নিয়ে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের দ্বিতীয় তলার অধ্যক্ষের রুমের সামনে যায়। সেখানে ওয়াল ক্যাবিনেট থেকে একটি কাচের গ্লাস জব্দ করা হয়। জব্দ তালিকায় আমরা স্বাক্ষর করি। ওই সময়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ জানায়, ওই গ্লাসে কেরোসিন ভরে নুসরাতের গায়ে ঢেলে আগুন লাগানো হয়।’
কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা তাদের জবানিতে বলেন, ‘১ এপ্রিল দুপুরে বিবি জহুরা তার ভাই অধ্যক্ষ সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার সঙ্গে আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, ইমরান হোসেন মামুন, হাফেজ আব্দুল কাদের ছিলেন বলে রেজিস্টারে উল্লেখ আছে। ৩ এপ্রিল দুপুরে সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন । তার সঙ্গে শাহাদাত হোসেন শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা, জাবেদ হোসেনসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।
২৭ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সিরাজের সহযোগীরা দফায় দফায় তার সঙ্গে দেখা করেন বলে কারারক্ষীদের বক্তব্যে উঠে আসে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, রবিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন।

এর আগে, ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।

উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
তিন বছর নয়, এলডিসি উত্তরণ নিয়ে কীভাবে ভুল করলো দেশের প্রায় সব মিডিয়া
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম