ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর পালন করতে গিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারিসহ পাঁচ জন আহত হয়েছেন। এর ফলে পূর্ব নির্ধারিত সভা পণ্ড হয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশ চার জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৭ নভেম্বর পালন উপলক্ষে নবীনগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে দুটি গ্রুপ সভা আহ্বান করে। সদ্য অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ করা উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম রুবেলের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ স্থানীয় সমবায় মার্কেটে থাকা দলীয় কার্যালয়ে ছাত্রদলের ব্যানারে আলোচনা সভার আয়োজন করে। একই সময়ে একই স্থানে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পূর্ব নির্ধারিত আরেকটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভা চলাকালে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সভা দুটি পণ্ড হয়ে যায়।
এ সময় হযরত আলী ও রুবেলের অনুসারীদের হামলায় উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান মঞ্জু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিনসহ পাঁচ জন আহত হন।
সংঘর্ষ চলাকালে সমবায় মার্কেট ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ এ ঘটনায় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন, বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম জরু মিয়া, বিল্লাল হোসেন ও মো. জুনাইদ নামে চার জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে সদ্য পদত্যাগকারী ছাত্রদল নেতা হযরত আলী ও আশরাফুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আমরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিক ভাইয়ের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে সকাল ১০টায় ৭ই নভেম্বর স্মরণে দলীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করি। আমাদের সভার পর আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি (সফিক) অবশ্য দ্রুত আমাদের সভাটি শেষ করার তাগিদও দেন। কিন্তু এরই মধ্যে বিএনপির বিতর্কিত সেক্রেটারি আনিছুর রহমান মঞ্জুর নেতৃত্বে দলের নেতাকর্মীরা আমাদের সভা করতে বাধা দিলে দু’পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়, যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে বিএনপির সেক্রেটারিসহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এদিকে এ বিষয়ে চেষ্টা করেও বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আনিছুর রহমান মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।
তবে আটক হওয়া বিএনপি নেতা জহিরুল ইসলাম জরু মিয়ার ছেলে ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ছাত্রদল থেকে পদত্যাগকারীরা পরিকল্পিতভাবে বিএনপির সেক্রেটারি মঞ্জু ভাই ও পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছিরসহ কয়েকজনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
নবীনগর থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, ‘সংঘর্ষে বিএনপির সেক্রেটারিসহ কয়েকজন আহত হয়। এ ঘটনায় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাছিরসহ চার জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি।’







