কলেজ আছে হাসপাতাল নেই, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার
১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৯আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১২:১৩

কলেজ আছে হাসপাতাল নেই, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। নামে আধুনিক কলেজ হলেও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য নেই কোনও হাসপাতাল। ২০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এ কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। অবশ্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে ৫শ’ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একটি অস্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রূপ দেয়। এজন্য কক্সবাজার শহরের জানারঘোনা এলাকায় ৩৩ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। চারদিকে সীমানা প্রাচীরের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় মনোরম ক্যাম্পাস। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে উক্ত ক্যাম্পাসে পুরোদমে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। ১০ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন, ২টি ছাত্রাবাস ও খেলার মাঠসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। তবে অনুমোদন পাওয়া ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি এখনও গড়ে না ওঠায় জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিতে হচ্ছে এসব শিক্ষার্থীদের।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক অধিভুক্তি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই কলেজে এক বছর মেয়াদি হাতে-কলমে শিখনসহ (ইন্টার্নশিপ) স্নাতক পর্যায়ের পাঁচ বছর মেয়াদি ‘এমবিবিএস’ শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে; যাতে প্রতি বছর ৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। বর্তমানে এই মেডিক্যালে ৪২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
মেডিক্যাল কলেজের ১১তম ব্যাচের ছাত্র তানভীর চৌধুরী বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে হাসপাতাল এখনও নির্মাণ হয়নি। কক্সবাজার সদর হাসপাতাল অনেক দূরে। প্রতিনিয়ত যাতায়াতে অসুবিধায় পড়তে হয়।
একই ব্যাচের আরেক শিক্ষার্থী আফিয়া তাসনিম বলেন, আমাদের মেডিক্যাল কলেজের সবকিছুই ভালো। হোস্টেল এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশও সুন্দর। হাসপাতাল থাকলে আরও অনেক সুবিধা হতো। আমাদের যাতায়াতে সময় নষ্ট হতো না। শহরে অনেক সময় টমটমে করে সদর হাসপাতালে যেতে হয়। সময় এবং সামর্থ্য দুটোতেই ঘাটতি থাকে। যত দ্রুত সম্ভব ক্যাম্পাসে হাসপাতাল নির্মাণহলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হাসপাতাল খুবই প্রয়োজন। এখনও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের নিজস্ব হাসপাতাল হয়নি। শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস করতে প্রতিদিন সকাল-বিকাল কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবে সেখানে গিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে।’
কলেজ আছে হাসপাতাল নেই, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা আরও বলেন, ‘কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের চার মেডিক্যাল কলেজের জন্য আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পটি বছর দেড়েক আগে একনেকে পাসও হয়েছে। ওই প্রকল্পে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ ধরা হয় ৬০০ কোটি টাকা। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, ১০ তলা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন (প্রতি ফ্লোরে স্পেস হবে ১ লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার ফিট), ডক্টরস কোয়ার্টার, নার্সেস কোয়ার্টার, অডিটরিয়াম, কনফারেন্স রুম, আলাদা সড়ক, ছাত্রছাত্রী বাড়লে হোস্টেল নির্মাণ ইত্যাদি।’
অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘একনেকে পাস হওয়ার পর থেকে দেশের বাকি তিনটি মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালসহ অবকাঠামো নির্মাণ হলেও কক্সবাজার মেডিক্যালের হাসপাতাল নির্মাণ কার্যক্রমের কোনও উন্নতি হয়নি, ঝিমিয়ে পড়েছে প্রকল্পটি। বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি যেন মাঠ পর্যায়ে হাসপাতালসহ অন্যান্য কাজগুলো শুরু হয়।’
অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সমস্যা একটা বড় ইস্যু। ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় অনেক কার্যক্রম হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের সেবা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা বঞ্চিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয়দের স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় ১২০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম হবে। যেটাতে অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে লাগবে ২০০ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে আমরা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
অধ্যাপক ডা. সুবাস চন্দ্র সাহার বলেন, ‘কক্সবাজারের সদর হাসপাতাল এমন এক জায়গায় অবস্থিত যেখানে ইচ্ছে করলেও অবকাঠামোর উন্নয়নের সুযোগ নেই। ভবনগুলোও পুরনো। সে হিসেবে যদি কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ হয় তাহলে স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের সেবা বাড়বে। সদর হাসপাতালের চিকিৎসা জট কমে আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত যাতায়াত সেটা আর করা লাগবে না।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
বিশ্বকাপের আগে খেলোয়াড়দের নিয়ে সতর্ক ফ্রান্স কোচ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান