রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন

কক্সবাজার প্রতিনিধি
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৫২আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৫৭

রোহিঙ্গা ক্যাম্প (ফাইল ফটো) রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও নজরদারিতে আর্মড পুলিশের আরও একটি নতুন ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হচ্ছে কক্সবাজারে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উক্ত ব্যাটালিয়নের কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। শিগগিরই ১৬তম আর্মড পুলিশের এ ব্যাটালিয়নটি কার্যক্রম শুরু করবে। এর আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১৪তম ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুটি ব্যাটালিয়ন এক সঙ্গে কাজ করবে।
২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইনে সে দেশের সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা। এসব রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের অন্তত ১০ হাজার একর বনভূমি বরাদ্দ দেয় সরকার। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবাসহ মানবিক সাহায্য দিয়ে আসছে সরকার। এখনও এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক সাহায্য অব্যাহত রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে থাকা উক্ত ক্যাম্পগুলোতে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা একের পর এক নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবা ও মাদকপাচার, মানবপাচার, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে তারা। এসব অপরাধ দমনে ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪তম আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেয়। উক্ত ব্যাটালিয়নের আওতায় ৩৫০ জন সদস্যসহ অন্তত ৯৫০ জন সদস্য কাজ করছে।
নতুন আর্মড পুলিশের আরও একটি ব্যাটালিয়ন যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশের নতুন ব্যাটালিয়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনি সহায়তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কুইক রেসপন্স টিম, বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।’
মাসুদ হোসেন আরও বলেন, ‘বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৪তম ব্যাটালিয়নের সদস্যসহ ৯৫০ জন আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করছে। এরমধ্যে আর্মড পুলিশের সদস্য ৩৫০ জন, জেলা পুলিশের সদস্য ২২৫ জন ও বিভিন্ন জেলা থেকে ২৭৫ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছে। সম্প্রতি আরও একটি নতুন করে আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়ন অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়। এতে যুক্ত হচ্ছে আরও পাঁচ শতাধিক সদস্য। সব মিলিয়ে উখিয়া-টেকনাফের পুরো ক্যাম্পগুলোতে ব্যাপক নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালী, মধুরছড়া, পালংখালী, টেকনাফের নয়াপাড়া, উনচিপ্রাং, জাদিমোরা, দমদমিয়াসহ ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তারা ক্যাম্প থেকে বের হয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি মানব পাচারকারীদের শিকার হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। যে কারণে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা প্রয়োজন। এসব রোহিঙ্গাকে নিরাপত্তা দেওয়া ও নজরদারি করা কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে কক্সবাজার জেলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্থাপন করা হয়েছে।

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী