ফেনীর দাগনভূঞায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) নতুন করে ৮ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে পৌর এলাকায় চার জন, মাতুভূঞা ইউনিয়নের তিন জন এবং জায়লস্কর ইউনিয়নের একজন রয়েছেন। নতুন শনাক্তের খবর পেয়ে সকালে আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করতে যায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তারা গিয়ে দেখেন, পৌর এলাকায় নতুন আক্রান্ত চার জনের মধ্যে তিন জনই বাড়িতে নেই। এদের একজন মার্কেটিংয়ে, একজন মসজিদে ও একজন বাসা ছেড়ে বরিশালে গেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুবাইয়েত বিন করিম বলেন, ‘যারা নমুনা দিয়েছেন, তাদের উচিত ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা। কিন্তু আমরা যখন নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসা চার ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করতে যাই, দেখি কেউ বাড়িতে নেই; যা খুবই বিপদজনক। এভাবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে যারা নমুনা দিয়েছেন তারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকুন। তাহলে আপনি সুরক্ষিত থাকবেন, অপরকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।’
দাগনভূঞা পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান বলেন, ‘আজ পৌর এলাকায় চার জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে। এদের মধ্যে একজন মোল্লা বাড়ির মোস্তফা মিয়া। উনার বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি ওই মুহূর্তে মসজিদে অবস্থান করছেন। এছাড়া হাসপাতাল রোডে ভূইয়া ম্যানসনে ওষুধ কোম্পানির সেলস এক্সিকিউটিভ মনির হোসেনের করোনা শনাক্ত হয়। তার বাসা লকডাউন করতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কর্মস্থলে (মার্কেটিংয়ে) রয়েছেন। একই বাসার অপরজন সেলস এক্সিকিউটিভ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি ইতোমধ্যে বরিশাল নিজ এলাকায় চলে গেছেন।’
মেয়র আরও বলেন, ‘গত কয়েক দিনে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। নমুনা দিয়ে ব্যক্তিরা ঘরে না থেকে কেউ কর্মস্থলে, কেউ বাজারে, কেউ সেলুনে অবস্থান করছেন। বেশিরভাগ বাড়ি লকডাউন করতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে; যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
প্রসঙ্গত, গত ১০ জুন নতুন আক্রান্তদের তিন জনের নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।








