নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে নারীকে বিবস্ত্র ও নির্যাতন এবং ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৬ নম্বর আসামি সামছুদ্দিন ওরফে সুমন (৩৯)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকাল ৫টার দিকে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় ৬ জন এজাহারভুক্ত আসামিসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
এ ঘটনায় গত ৫ অক্টোবর রাত ১টায় নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে বাদলকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন। পরে ৬ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টায় ওই নারী বাদী হয়ে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন এবং তার সহযোগী কালামের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এর পরিদর্শক মামুনুর রশিদ পাটোয়ারি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকাল ৫টায় কুমিল্লা শহর থেকে পিবিআই এর সদস্যরা সামছুদ্দিন ওরফে সুমনকে আটক করে। আটক সুমন একলাশপুর ইউনিয়নের পূর্ব একলাশপুর গ্রামের দরবেশ আলী বাড়ির নেয়ামত উল্যাহর ছেলে। এছাড়া এ ঘটনায় বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
এর আগে ৪ অক্টোবর বিকালে একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খালপাড় এলাকার হারিধন ভূঁইয়া বাড়ির শেখ আহম্মদ দুলালের ছেলে মো. রহিমকে এবং একই দিন রাতে একই এলাকার মোহর আলী মুন্সি বাড়ির মৃত আব্দুর রহিমের ছেলে মো. রহমত উল্যাহকে গ্রেফতার করে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ। ৫ অক্টোবর ভোরে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ারকে নারায়ণগঞ্জ থেকে এবং তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সকালে মামলার প্রধান আসামি বাদলকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে র্যাব-১১। ৬ অক্টোবর সাজুকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড এর সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে একলাশপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ৭ অক্টোবর রাত ১টায় দেলোয়ারের সহযোগী সোহাগ ও নূর হোসেন রাসেলকে একলাশপুর থেকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ভোর সাড়ে ৫ টায় কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এলাকা থেকে কালামকে র্যাব-১১ এবং ৮ অক্টোবর রাত ১১টায় দেলোয়ারের সহযোগী মাঈনুদ্দিন সাহেদকে একলাশপুর থেকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই দুটি মামলা হয়।
ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, নির্যাতনকারীরা ওই গৃহবধূর পোশাক কেড়ে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কিছু একটা বলতে থাকে। তিনি প্রাণপণে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেন এবং হামলাকারীদের ‘বাবা’ ডাকেন, তাদের পায়ে ধরেন। কিন্তু, তারা ভিডিও ধারণ বন্ধ করেনি; বরং হামলাকারীদের একজন তার মুখমণ্ডলে লাথি মারে এবং পা দিয়ে মুখসহ শরীর মাড়িয়ে দেয়। এরপর একটা লাঠি দিয়ে মাঝে মাঝেই আঘাত করতে থাকে। এ সময় ঘটনাটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার উল্লাস প্রকাশ করে ‘ফেসবুক’ ‘ফেসবুক’ বলে চেঁচায় আরেকজন।







