২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে যে ঘটনা হয়েছিল তার পুরো দায়ভার জুনাইদ বাবুনগরীকে নিতে হবে বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের একাংশের নেতারা। তাদের দাবি, সাত বছর আগে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার পেছনে তৎকালীন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীর হাত ছিল। ওই দিন বাবুনগরী তৎকালীন আমীর শাহ আহমদ শফীকে না জানিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের রাতভর শাপলা চত্বরে রেখে দেন। তার ধারণা ছিল, সারারাত শাপলা চত্বরে অবস্থান নিতে পারলে যে পরিস্থিতি তৈরি হবে তাতে সেনাবাহিনী নামতে বাধ্য হবে।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এই দাবি করেন। প্রয়াত শাহ আহমদ শফীর জীবনকর্ম, অবদান শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় শিরোনামে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে শফীপন্থীরা।
চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদের মেজবাহুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে সভায় শফীপন্থী হেফাজতের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ইসলামি ঐক্যজোটের একাংশের মহাসচিব মো. ফয়জুল্লাহ, হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাইনুদ্দীন রুহী, হেফাজত নেতা নুরুল ইসলাম, নুরুল আলম, ইয়াসিন হাবিব, শামসুল আলম বক্তব্য রাখেন। শাহ আহমদ শফীর পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ছেলে হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানী ও শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন।
সভায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব সলিমুল্লাহ বলেন, ‘ওইদিন শাপলা চত্বরে আয়োজিত মিটিং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার জন্য বলা হয়েছিল। হযরত (শফি হুজুর) নিজেও সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু জুনাইদ বাবুনগরী হযরতকে নানাভাবে ভুল বুঝিয়েছেন। বাবুনগরী হুজুরকে জানান, সারাদেশ থেকে মাদ্রাসার ছেলেরা শাপলা চত্বরের উদ্দেশে আসছে। সারারাত থাকতে পারলে সেনাবাহিনী নামবে। এরপর তিনি হুজুরকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। হুজুর মুখ ফুটে একটি কথাও বলেননি। বাবুনগরীর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শাপলা চত্বরের অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়েছে। ওই ঘটনার পুরো দায়ভার জুনাইদ বাবুনগরীকে নিতে হবে।
ফয়জুল্লাহ বলেন, আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এজন্য বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
একই দাবি জানিয়েছেন হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মাইনুদ্দীন রুহী।
তিনি বলেছেন, ‘আহমদ শফী হুজুরকে হত্যা করা হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। এটি সরকারের দায়িত্ব, সরকারকেই এই দায়িত্ব নিতে হবে।
রুহী আরও বলেন, আহমদ শফি হুজুরকে শাহাদাত বরণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। উনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হুজুরকে গৃহবন্দী করে উনার খাবার, ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। হাসপাতালে নিতে আসা অ্যাম্বুলেন্স আসতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল।








