কক্সবাজারের টেকনাফ শরণার্থী শিবিরে পাঁচ রোহিঙ্গা নেতাকে নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। ফলে শরণার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ২২ নম্বর ক্যাম্পের ওই পাঁচ মাঝি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার দুপুরে ২১ নম্বর চাকমারকূল ক্যাম্পে (পুথিবনিয়া) মিটিংয়ে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন তারা।
নিখোঁজ মাঝিরা হলেন, টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ক্যাম্পের বি-টু’র হেড মাঝি মো. রফিক ( ৪২), একই ক্যাম্পের এ-ব্লকের মাঝি মো. ইউসুফ (৪০) বি-ব্লকের মাঝি মো. মুসা (৩৯). সি-ব্লকের আমান উল্লাহ (৪৫), ডি-ব্লকের মো. সাব্বির আহমদ (৪৩)।
এ বিষয়ে টেকনাফের হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ক্যাম্পে এপিবিএন এর পুলিশ চৌকির (ইনচার্জ) ইন্সপেক্টর রাকিবুল ইসলাম জানান, ‘মিটিংয়ের কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়া ক্যাম্পের পাঁচ রোহিঙ্গার নেতার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অপহরণের শিকার হয়েছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিবার লিখিত জানায়নি।’
নিখোঁজ মাঝি সাব্বির আহমদের বাবা হারুন রশিদ (৬৫) জানান, ‘বুধবার দুপুরে চাকমারকূল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিআইসির সঙ্গে বৈঠকের কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে একই ক্যাম্পের আরও চার জন মাঝি ছিলেন। রাতে ঘরে না ফেরায় ফোনে খোঁজ করলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। আমার খুব ভয় হচ্ছে। জানিনা আমার ছেলে কোথায় আছে।’
তিনি জানান, ‘আমার ছেলে ক্যাম্পে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারই সূত্র ধরেই ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি ডাকতরা হয়তো তাদের ধরে নিয়ে গেছে। বিষয়টি পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।’
ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ‘কাল একটি বৈঠকে যাওয়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হওয়া পাঁচ রোহিঙ্গা নেতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ধারনা করা হচ্ছে তাদের পাহাড়ি ডাকাত দলের লোকজন অপহরণ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের লোকজন কাজ করছে।’
এদিকে ১০ জানুয়ারি টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে চাকমারকুল ক্যাম্পে দুই দল রোহিঙ্গা ডাকাতের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নুর হাকিম নামের একজন নিহত হয়েছিলেন।









