ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ফতেহপুর আর এন টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমীন খানকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সাদেকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত প্রধান শিক্ষককে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে প্রধান শিক্ষক মো. আল-আমীন খানকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী ব্যক্তিকে গ্রেফতারের দাবি জানান। তবে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা দায়ের হয়নি।
প্রধান শিক্ষক আল-আমীন খান অভিযোগ করেন, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির নাম দেরিতে জমা দেওয়ার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক তাকে মারধর করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান তাকে চড়-থাপ্পড় মারাসহ লাঞ্ছিত করেন। তিনি জানান, কমিটির মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান সাদেকের নামও রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘অনেক মানুষের সামনেই আমাকে মারধর করা হয়। ইউএনও স্যার আমাকে রক্ষা করেছেন। আমি ছাত্রীদের সামনে কীভাবে মুখ দেখাবো।’
স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার জাকির আহম্মেদ শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হামলাকারীকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।’
এ ব্যাপারে ভাইস চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সাদেক সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটির নাম জমা দিতে দেরি করায় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। আমি বিষয়টি জানতে পেরে ওই শিক্ষককে রক্ষা করেছি।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ দৌঁলা খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর মারধরের কোনও ঘটনা তিনি শোনেননি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি সত্য হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








