স্বনামধন্য গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক, সচিব, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেলসহ বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণার দায়ে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) ভোরে খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (কাউন্টার টেররিজম ইউনিট) আসিফ মহিউদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, গ্রেফতার দুইজন সংঘবদ্ধ পেশাদার প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। প্রতারক চক্রটি কৌশলে বাংলাদেশের স্বনামধন্য বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানির কর্মকর্তা না হয়েও কখনও চেয়ারম্যান, কখনও চেয়ারম্যানের মেয়ের জামাতা, কখনও ডিরেক্টর, কখনও এমডি, আবার কখনওবা অবসরপ্রাপ্ত সচিব পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এভাবে সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিং ও নগদে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন বলে তারা স্বীকার করে। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার দুইজন হলেন মো. হানিফ ওরফে ডিপজল (৫০) এবং মো. শামসুল আলম (৪২)।
কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা যায়, আসামিদের একজন একটি স্বনামধন্য সিমেন্ট কোম্পানিতে কর্মরত ডিজিএম পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে ফোন করে নিজেকে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং এস.আলম গ্রুপের পরিচালক হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর তাকে এস.আলম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব করে। তিনি এতে আগ্রহ দেখালে তাকে ঢাকায় ইন্টারভিউ দেওয়ার কথা বলে। এরপর কৌশলে কণ্ঠস্বর পরিবর্তন করে নিজেই এস.আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সখ্যতা সৃষ্টি করে কয়েকদিন পর চেয়ারম্যানের মেয়ে ও মেয়ের জামাই এবং দুই জন ইঞ্জিনিয়ারের সাথে বিমানযোগে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বলে।
সূত্রটি আরও জানায়, এরপর তাকে বিমান ভাড়া বাবদ বিমান বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা বিকাশ করিতে বলে। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে ওই নম্বরে টাকা বিকাশ করেন। এর কিছুক্ষণ পর এস.আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাসুদ সাহেব পরিচয়দানকারী প্রতারক ব্যক্তি মামলার ভিকটিমকে কোম্পানির জিএম পদের জন্য নির্ধারিত গাড়ি বন্দরে আছে উল্লেখ করে তা ছাড়িয়ে নিতে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলে। এবারও ভিকটিম সরল বিশ্বাসে টাকা পাঠান। এভাবে তার কাছ থেকে ৮০ হাজার ৭০০ টাকা বিকাশে নেয় প্রতারক।
পরে এ ঘটনায় গত ২৩ মার্চ কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মো. হানিফ মিয়া ওরফে ডিপজল ও তার সহযোগী মো. শামসুল আলমদের অবস্থান শনাক্ত করে সিএমপি। সে অনুযায়ী সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের একটি আভিযানিক টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।









