কুমিল্লায় প্রকাশ্য দিবালোকে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও সহযোগী হরিপদ সাহাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অস্ত্রের জোগানদাতাসহ কিলিং স্কোয়াডের আরও দুজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে তাদেরকে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক চন্দন কান্তি নাথ আসামিদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নাজিম উদ্দিন ওরফে (৩০) নাদিম এবং রিশাত (২৫)।
এর আগে, সোমবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। নাজিম ওরফে নাদিম নগরীর শুভপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে এবং রিশাত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুণবতী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, জোড়া খুনের এ ঘটনার সিসিটিভির ফুটেজ দেখে শনাক্ত হওয়া কিলিং স্কোয়াডের সদস্য নাজিমকে নগরীর শুভপুর এলাকা থেকে এবং তদন্তে পাওয়া কিলিং স্কোয়াডের আরেক সদস্য ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অন্যতম জোগানদাতা মো. রিশাতকে চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সদ্য গ্রেফতার দুই আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঘটনায় ব্যবহৃত আরও কিছু অস্ত্র উদ্ধার বাকি রয়েছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। আর নেপথ্যে কারা আছে তা বের করতেই জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলায় মোট চার আসামি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা ঘটনার আদ্যোপান্ত বিবরণ দিয়েছেন। এরপরও আরও কিছু তথ্য আমাদের জানা প্রয়োজন। সে জন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনায় যারা জড়িত তাদের তথ্য এসেছে। এখনও তদন্ত শেষ হয়নি, তদন্তে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
গত ২২ নভেম্বর বিকাল ৪টার দিকে নগরীর পাথরিয়াপাড়া থ্রি-স্টার এন্টারপ্রাইজে কাউন্সিলর কার্যালয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন কাউন্সিলর সোহেল ও সহযোগী হরিপদ সাহা। কাউন্সিলর সোহেল কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। নিহত হরিপদ সাহা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য এবং সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এর মধ্যে পুলিশ ও র্যাব এ পর্যন্ত এজাহারনামীয় সাত ও সিসিটিভি ফুটেজ এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিলিং স্কোয়াডে অংশ নেওয়া আরও চার জনকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি শাহ আলমসহ তিন জন নিহত হন।







