X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু: এসপি’কে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ১১ মে ২০২২, ২৩:২২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে থানা পুলিশের হেফাজতে ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে দায়ের মামলাটি আমলে নিয়েছেন বিচারক। মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা নিগার পুলিশ সুপারকে (এসপি) মামলাটি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে রবিবার দুপুরে মৃত ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর স্ত্রী শিরীন সুলতানা রিমা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন। সাপুকে হত্যার অভিযোগে সরাইল থানার এসআই সাইফুল, এএসআই সাইফুলসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে তিনি এই মামলা দায়ের করেন। রবিবার জেলা ও দায়রা জজ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আদেশের জন্য রেখে দেন। 

মামলার বাদী শিরীন সুলতানা রিমা এজাহারে অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন দুপুরে মামলার আসামি মাহফুজ মিয়া, দানু মিয়া, শাহাবুদ্দিনসহ অপরাপর আসামিরা পাড়ার একটি ফার্নিচারের দোকানে উপস্থিত লোকজনকে জানিয়ে আসেন তারা নজির আহমেদ সাপুর বসতবাড়ির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পেয়েছেন। পরে তারা নজিরকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসেন। একই দিন বিকালে মামলার আসামি জুম্মানসহ আরও কয়েকজন আসামি সাপু ও তার স্ত্রীকে হুমকি দেন, বাড়িতে বসবাস করতে হলে তাদের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, না হলে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় আসামি জুম্মান ব্যবসায়ী সাপুর ঘরে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে। টের পেয়ে সাপু তাকে আটক করলে খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন জুম্মানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সাপুর বাড়িতে হামলা করে।

এ সময় তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়ী সাপুর কাছে জানতে চান কেন জুম্মানকে আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগে মামলার বাদী দাবি করেন, পুলিশ সাপুর কোনও কথা না শুনেই তাকে জুম্মানের সঙ্গে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন সাপুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা তাকে মৃত দেখতে পান। ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সাপুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, থানায় পুলিশ ও অপরাপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করেছে।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট নাছির মিয়া। তাকে সহায়তা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তানভীর ভূঁইয়া, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. জামাল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট আখতার হোসেন সাঈদ, অ্যাডভোকেট অসীম কুমার বর্ধন ও অ্যাডভোকেট আবদুন নূর।

এ ব্যাপারে অ্যাডভোকেট নাছির মিয়া বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতে দ্বিতীয়বার এফআইআর গ্রহণ করার পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতের রেফারেন্সসহ আমাদের যুক্তি তুলে ধরেছি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার আদালত মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।’

উল্লেখ্য, অভিযোগসূত্রে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জুম্মান নামে প্রতিপক্ষের এক আসামি গত ২১ এপ্রিল রাতে ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর ঘরে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করলে তাকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামি জুম্মান ও ব্যবসায়ী সাপুকে থানায় নিয়ে আসার পর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী সাপুর মৃত্যু হয়। এরপর ব্যবসায়ী সাপুর মরদেহ হাসপাতালে রেখেই এ ঘটনায় পুলিশ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখিয়ে নজিরের বড় ভাই জাফর আহমেদকে বাদী করে একটি এফআইআর গ্রহণ করে।

/এমএএ/এমওএফ/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
চলছে ‘গিয়ার খাও, হাট কাঁপাও’ ক্যাম্পেইন
চলছে ‘গিয়ার খাও, হাট কাঁপাও’ ক্যাম্পেইন
ঈদের আগে রেমিট্যান্সের জোয়ার
ঈদের আগে রেমিট্যান্সের জোয়ার
তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে ইউক্রেন
তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে ইউক্রেন
পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত  
পানির দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত  
এ বিভাগের সর্বশেষ
ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হত্যা: ৪ আসামি রিমান্ডে
ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল হত্যা: ৪ আসামি রিমান্ডে
লোকসানে গরু বিক্রি করবো নাকি?
লোকসানে গরু বিক্রি করবো নাকি?
রিসোর্ট থেকে তরুণীর হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার
রিসোর্ট থেকে তরুণীর হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার
সীতাকুণ্ডে আগুন: পরিচয় মিলেছে আরও ৮ লাশের
সীতাকুণ্ডে আগুন: পরিচয় মিলেছে আরও ৮ লাশের
ছেলের শাবলের আঘাতে প্রাণ গেলো বাবার
ছেলের শাবলের আঘাতে প্রাণ গেলো বাবার