কুমিল্লা শহরতলীর ধর্মপুরে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে টানা তৃতীয় দিনের মতো মঙ্গলবারও (২৩ আগস্ট) অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা গেছে। সেই সঙ্গে ঘর থেকে ছাগল ও পুকুর থেকে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার চার দিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া গ্রেফতারও হয়নি কেউ। এ নিয়ে ধর্মপুর, সাতোরা ও ভিক্টোরিয়া কলেজ এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আদর্শ সদর উপজেলার ৩ নম্বর দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হান্নান সোহেল বলেন, ‘বছর খানেক আগে আমরা ১৫ জন ধর্মপুর এলাকার একটি পুকুর ইজারা নিই। শর্ত ছিল বছরে মাছ বিক্রির ৩০ হাজার টাকা পাশের মসজিদে দিতে হবে। এক ভাগ মাছ স্থানীয়দের মাঝে বণ্টন করতে হবে। তারপর যে পরিমাণ মাছ থাকে তা আমরা যারা শেয়ারে আছি তাদের মধ্যে ভাগ হবে। মঙ্গলবার সকালে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম রুবেল ও যুবলীগ নেতা চপলের নেতৃত্বে পুকুরের আড়াই লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এর আগে তারা সোমবার রাতে ঘর থেকে ছাগল নিয়ে যায়। দলবল নিয়ে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে তারা। আমার চাচা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিলেও তা মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, অস্ত্রের মহড়া
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘ছাগল লুট, মাছ লুট এগুলো আমরা করিনি। হয়তো এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে এগুলো করেছে।’
লিখিত অভিযোগ মামলা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, ‘মামলা কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, সে বিষয়ে কিছু জানি না। এ বিষয়ে জেনে বলতে পারবো।’
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে নতুন যোগদান করেছি। ঘটনাটি শুনেছি। আজই এই বিষয়ে বসবো। কেন মামলা হয়নি জানবো। এই ঘটনায় অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
উল্লেখ্য, আদর্শ সদর উপজেলার দক্ষিণ দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হান্নান সোহেল ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম রুবেলের গ্রুপের মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব অনেক দিনের। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত রবিবার ধর্মপুরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এমন একটি সিসিটিভি ফুটেজ সোমবার ভাইরাল হয়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, রবিবার রাস্তায় বন্দুক হাতে মহড়া দিচ্ছেন দুই জন। স্থানীয়রা তাদেরকে রুবেল ও চপল বলে চিহ্নিত করেন।
এছাড়া সিসিটিভির ক্যামেরা ভাঙতে দেখা যায় জনিকে। রবিবার প্রায় সাত ঘণ্টা অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার ঘটনা ঘটে। দুই গ্রুপের বিরোধে বিকাল সন্ধ্যায় আরও দুই দফা হামলা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুট করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে ওই এলাকায় অবস্থিত ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রি শাখায়। এ ঘটনায় সোমবারও ওই এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দেওয়া হয়।








