চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জন্ম নেওয়া বিরল প্রজাতির চার সাদা বাঘ শাবক দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান চার শাবককে খাঁচায় উন্মুক্ত করে দেন। ওই চার সাদা বাঘের মধ্যে একটি নারী শাবক, নাম হালদা। বাকি তিনটি পুরুষ শাবক পদ্মা, মেঘনা ও সাঙ্গু।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চার বাঘ শাবককে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এদের দেখতে খাঁচার সামনে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। গত ৩০ জুলাই রাতে বাঘ দম্পতি রাজ-পরীর ঘরে জন্ম নেয় চার সাদা বাঘ। এ বাঘ শাবকের বয়স এখন এক মাস।
তিনি আরও জানান, এর আগে ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া প্রথম সাদা বাঘটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের সৃষ্টি করেছে।চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বর্তমানে ১৬টি বাঘ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ।
বিরল ৪ সাদা বাঘ শাবকের নাম পদ্মা-মেঘনা-সাঙ্গু-হালদাচট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বাঘ ছাড়াও আছে– জেব্রা, ভাল্লুক, সিংহ, হরিণ (চিত্রা, সাম্বার, মায়া), উল্লুক, বানর, মেছোবিড়াল, চিতাবিড়াল, অজগর, বাঘডাসা, উঠপাখি, ইমু পাখি, গয়াল, কুমির, ময়ূর, ঘোড়া, বক, টিয়াসহ ৬৬ প্রজাতির ৬২০টি পশুপাখি। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ২০১৯ সালে দলগতভাবে বঙ্গবন্ধু জনপ্রশাসন পদক অর্জন করে।’
তিনি আরও বলেন, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে হচ্ছে নাইট সাফারি পার্ক। এই নাইট সাফারি পার্ক চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা-২ নামে পরিচিত হবে। নাইট সাফারি পার্কের পশু কেনার জন্য শিগগিরই আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও এ সাফারি পার্কের জন্য পশু সংগ্রহ করা হবে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর দরপত্রের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ৩৩ লাখ টাকায় ১১ মাস বয়সী রাজ এবং নয় মাস বয়সী পরীকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই রাজ-পরী দম্পতির ঘরে তিনটি ছানার জন্ম হয়। সেগুলোর মধ্যে দুটি ছিল সাদা বাঘ এবং একটি কমলা-কালো ডোরাকাটা। সাদা রঙের একটি শাবক মারা যায়। অন্য সাদা শাবকটির নাম রাখা হয় শুভ্রা। কমলা কালো ডোরাকাটা বাঘিনীর নাম দেওয়া হয় জয়া।
পরে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রাজ-পরীর জন্ম দেওয়া শাবকের নাম রাখা হয় ‘করোনা’। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর তিনটি শাবকের জন্ম হয় রাজ-পরীর ঘরে। মায়ের দুধ না পেয়ে রোগাক্রান্ত দুটি শাবক মারা যায়। একটি মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হন চিকিৎসকরা। সেটির নাম রাখা হয় ‘জো বাইডেন’।









