X
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩
১৪ মাঘ ১৪২৯

খাগড়াছড়িতে লাখো পর্যটক, হোটেল ভাড়া-খাবারের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ

জসিম উদ্দিন মজুমদার, খাগড়াছড়ি
০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০০আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০০

দুর্গোৎসব ঘিরে টানা ছুটিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বন্ধ রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান। এ সুযোগে লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে খাগড়াছড়িতে। পর্যটকদের আগমনে মুখরিত জেলার সব পর্যটন স্পট। সপ্তাহজুড়ে হোটেল-মোটেল ও কটেজ ভাড়া হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, গাড়ি, হোটেলের কক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম পর্যটকদের কাছে বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা ও পুলিশ প্রশাসন জানায়, সদর উপজেলার হর্টিকালচার হ্যারিটেজ পার্ক, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা, শতবর্ষী য়ংড বৌদ্ধ বিহার, আলুটিলা বৌদ্ধ বিহার, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, দশবল বৌদ্ধ বিহার, চেঙ্গি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা, মাটিরাঙার শতবর্ষী বটগাছ, উপজেলা প্রশাসন লেক, জলপাহাড়, ভগবান টিলা, রিছাং ঝরনা, মহালছড়ির মনারটেক লেক, দেবতার পুকুর, মানিকছড়ির বনলতা অ্যাগ্রো প্রাইভেট, পুরাতন রাজবাড়ি, পানছড়ির অরণ্য কুঠির, মায়াবিনী লেক, রাবার ড্যাম, রামগড়ের কৃত্রিম লেক, চা-বাগান, কলসি মুখ, প্রতিষ্ঠাকালীন বিজিবির ভাস্কর্য, দিঘিনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝরনাসহ শতাধিক পর্যটন স্পট রয়েছে। এসব পর্যটন স্পটে শনিবার থেকে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। সব হোটেল-মোটেলে উঠেছেন পর্যটকরা।

খাগড়াছড়ির রামগড়পর্যটন কেন্দ্র

হোটেল-মোটেল মালিকরা জানিয়েছেন, ৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার এবং সাজেকের সব হোটেল-মোটেল ও কটেজ বুকিং হয়ে গেছে। জেলায় সবমিলিয়ে ১২০ এবং সাজেকে ১১০টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এসব হোটেল-মোটেলে ৬০-৭০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু পর্যটক এসেছেন লক্ষাধিক। হোটেল-মোটেলে জায়গা না পেয়ে অনেক পর্যটক আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে থাকছেন।

হোটেল গাইরিংয়ের মালিক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, ‘টানা ছুটিতে
পর্যটকদের আকর্ষণ করতে জেলার ৯ উপজেলার প্রায় ৫০টি ছোট-বড় পর্যটন স্পটকে সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়া এবং ভ্রমণকালীন সময় আনন্দময় করতে গাইড সুবিধা এবং নিরাপত্তাকর্মী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রয়েছে।’

গাড়ি, হোটেলের কক্ষ ভাড়া ও খাবারের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা থেকে আগত পর্যটক ইউছুফ আদনান এবং শাহদাত হোসেন। তারা জানান, ক্লান্তি দূর করতে দুদিন আগে পাঁচ বন্ধু মিলে সাজেকে এসেছেন। মেঘের কোলে সাজেক ভ্যালি দেখতে অসাধারণ লেগেছে তাদের। দুদিনে সাজেকসহ খাগড়াছড়ির ১০টি পর্যটন স্পট ভ্রমণ করেছেন। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাদের মুগ্ধ করেছে। তবে হোটেল, গাড়ি ভাড়া ও খাবার খরচ বেশি রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লা থেকে আসা তাজনীন মুন্নি বলেন, ‘খাগড়াছড়ি থেকে একটি গাড়ি নিয়ে একরাত সাজেকে থেকে পরদিন খাগড়াছড়ি আসতে ভাড়া দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। খাবার মানসম্মত না হওয়ার পরও দাম ঢাকা-চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি রাখা হচ্ছে। এসব বিষয় প্রশাসন না দেখলে পর্যটকরা আগ্রহ হারাবেন।’

রিছাং ঝরনায় পর্যটকদের ভিড়

খাগড়াছড়ির হোটেল গ্রিন স্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া বলেন, ‘টানা এক সপ্তাহের ছুটিতে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে লাখো পর্যটক এসেছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১০ দিনের জন্য সব হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে। শুধু হোটেল-মোটেল নয়, খাগড়াছড়ি-সাজেক রুটে চলাচলকারী শতাধিক গাড়িও বুকিং হয়ে গেছে।’ 

খাবার ও হোটেলের কক্ষ ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনলাইন বুকিং চালু থাকায় হোটেল ভাড়া বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা নির্ধারিত ভাড়াই রাখছি। তবে জ্বালানির দাম বাড়ায় খাবারের দাম একটু বেড়েছে। তাও পর্যটকদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে আছে।’

পর্যটকদের কাছে ভাড়া বেশি রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. মাহবুব আলম বলেন, ‘খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পট পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি। এজন্য কমবেশি সবকিছুর দাম বেড়েছে। শুধু এখানে নয়, সারা দেশের পর্যটন স্পটে বেড়েছে। অন্যান্য পর্যটন জেলার সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যাবে, আমরা বেশি নিচ্ছি না।’ 

লাখো পর্যটকের সমাগম হয়েছে খাগড়াছড়িতে

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘প্রচুর পর্যটক এসেছেন। পর্যটকের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে প্রশাসন। হোটেল-মোটেল ও পরিবহন ভাড়া বেশি রাখার ক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে। এরপরও পর্যটকদের কাছ থেকে কেউ যাতে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারেন সে ব্যাপারে সতর্ক আছি আমরা। এমনকি পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে বর্তমানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। প্রচুর পর্যটক জেলার প্রত্যেকটি পর্যটন স্পটে এসেছেন। তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, ডিবি ও সাদা পোশাকে পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন তারা। হয়রানির বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এএম/ 
সর্বশেষ খবর
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
চলতি বছরেই ট্রেন যাবে কক্সবাজার
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার উলটে চালক নিহত
বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার উলটে চালক নিহত
মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ছাত্রীদের অবস্থান
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
কাভার্ডভ্যানের চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সর্বাধিক পঠিত
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
বিয়ে করে বিপাকে অভিনেতা তৌসিফ!
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
উপহার পেয়েছিলেন মাত্র চারটি, এখন তাদের ছাগল-ভেড়া ৬৩টি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
রাজধানীতে বিক্রি হচ্ছে জমজমের পানি
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
কলকাতার দেয়ালে দেয়ালে তাসনিয়া: ফারিণের পাশে দাঁড়ালেন প্রসেনজিৎ
আপনি কি আল্লাহর ফেরেশতা, মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের
আপনি কি আল্লাহর ফেরেশতা, মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের