ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি এড়াতে চট্টগ্রামে বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী নগরী ও উপজেলার ২০ হাজার বাসিন্দা এখন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। সোমবার (২৪ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সোমবার রাত ১০টা পর্যন্ত ২০ হাজার বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নিয়েছেন। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় তিন, আনোয়ারায় দুই, সন্দ্বীপে সাত, সীতাকুণ্ডে তিন, মীরসরাই ২৫০০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন। এছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকার (পতেঙ্গা ও কাট্টলী মৎস্যজীবী পল্লী এলাকা) আড়াই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, আরও অনেক বাসিন্দা আশ্রয়কেন্দ্রে আসছেন। ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর থেকে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। বৃষ্টিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পাহাড়ের পাদদেশ থেকেও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের সরে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, জেলায় ৫১১টি আশ্রয়কেন্দ্র, এক হাজার ১৪০টি বিদ্যালয় ও ৯টি মুজিব কিল্লা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে উদ্যোগে কন্ট্রোল রুম খোলার পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং মোকাবিলায় চট্টগ্রাম নগরীসহ ১৫ উপজেলায় ২৯০টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রেখেছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. ইলিয়াছ চৌধুরী।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের জরুরি মুহূর্তে সেবা দিতে চট্টগ্রাম জেলার ১৫ উপজেলার ২০০টি ইউনিয়নে একটি করে মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পাঁচটি করে মেডিক্যাল টিম, ৯টি আরবান ডিসপেনসারির অধীন ৯টি টিম, চট্টগ্রাম স্কুল হেলথ ক্লিনিকে একটি টিম ও চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঁচটি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।









