মীরসরাইয়ে মো. শরিফ উদ্দিন (১৫) নামে এক শিক্ষার্থী গত ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। সে উপজেলার মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ও মীরসরাই সদর ইউনিয়নের আবু নগর গ্রামের মৃত মো. আলা উদ্দিনের ছোট ছেলে। এই ঘটনায় গত ১ নভেম্বর শরিফ উদ্দিনের বড়ভাই তাজ উদ্দিন মীরসরাই থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (নম্বর- ৩৩) করেন।
জানা গেছে, গত ২৩ অক্টোবর সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফেরেনি শরিফ ও তার সহপাঠী মো. ফয়সাল ও আরমান। পরে ২৩ অক্টোবর রাতে আরমান এবং ২৯ অক্টোবর রাতে ফয়সাল বাড়ি ফিরে আসে। তবে ফেরার পর থেকে তারা কোনও কথা বলছে না।
শরিফের বড়ভাই মো. তাজ উদ্দিন বলেন, আমার ভাই গত ২৩ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফয়সাল ও আরমান নামে তার দুই সহপাঠী একইসঙ্গে নিখোঁজ হয়। তবে পরে তারা বাড়ি ফিরে এসেছে। কিন্তু আমার ছোটভাই এখনও ফেরেনি। ফয়সাল ও আরমান কোথায়, কার কাছে গিয়েছিল সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কিছু মনে নেই বলে জানিয়েছে।
ফয়সালের নানা হাফিজ আহম্মদ বলেন, নিখোঁজের সাত দিন পর গত ২৯ অক্টোবর রাতে জামালের দোকান এলাকায় অজ্ঞান অবস্থায় ফয়সালকে পাওয়া যায়। তার শরীর প্রচণ্ড দুর্বল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এখন সে বাড়িতে আছে। শরীর দুর্বল থাকায় ফয়সাল শুধু এটুকু আমাদের বলেছে যে, গত ২৩ অক্টোবর স্কুলে না গিয়ে শরিফের সঙ্গে আরমানসহ তারা একটি প্রাইভেটকার গাড়িতে করে বারইয়ারহাট যায়। গাড়িতে ওঠার পর সে অজ্ঞান হয়। এরপর এতদিন তারা কোথায় ছিল, কি অবস্থায় ছিল, তার কিছুই মনে নেই।
মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আলম বলেন, গত ২৩ অক্টোবর বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল, শরিফ ও আরমান নিখোঁজ হয়। আরমান ও ফয়সাল বাড়ি ফিরলেও শরিফ এখনও বাড়িতে ফেরেনি।
মীরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমান বলেন, মিঠাছরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থী মো. ফয়সাল ও শরিফ উদ্দিনের পরিবার পৃথক দুটি জিডি করেছেন। এর মধ্যে ফয়সাল ফিরলেও শরিফ এখনও নিখোঁজ। ফিরে আসার পর ফয়সাল কিছু বলছে না। কারা নিয়ে গিয়েছিল, কোথায় ছিল এসব কিছুই তার মনে নেই বলে জানিয়েছে। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।









