কক্সবাজারে মাঠপর্যায়ে লবণের দাম কমে যাওয়ায় চিন্তিত চাষিরা। এভাবে চলতে থাকলে আগামীতে পথে বসতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের একটি হোটেলের হলরুমে লবণ চাষিদের সঙ্গে মোল্লা সল্ট ও মোল্লা সুপার সল্টের কর্মকর্তাদের আলোচনা সভায় এসব কথা জানান লবণ চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা সভায় মিল মালিক, লবণ ব্যবসায়ী ও চাষিরা বলেন, গত মৌসুমে ৬১ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন হলেও সেটি দেশের চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম ছিল। তবে এবার চাহিদার বেশি উৎপাদনের আশা করছেন চাষিরা।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডুলাহাজারার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী জমির হোসেন, ছাবের আহমদ, মো. শহীদুল ইসলাম, আবু কায়সার, মহেশখালীর আবদুল মালেক, চকরিয়ার বদরখালী এলাকার সারোয়ার আলম, জাফর আলম মেম্বার, টেকনাফ এলাকার লবণ চাষি আবদুস সালাম, মো. রাসেল, বাঁশখালীর মো. ওসমান ও বাংলাদেশ লবণ চাষি সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী।
মোস্তফা কামাল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা লাভের আশাবাদী। ক্ষতির সম্মুখীন হতে চাই না। সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম, মাঠে লবণ দেখে মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যদি সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা যায় তবে লবণ চাষ বন্ধ হবে না।’
লবণ ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে চাষি আবু কায়সার বলেন, ‘যদি আপনারা লবণ কেনা বন্ধ করেন, তবে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। অনেক সময় আমরা মাঠ থেকে কিনে আপনাদের দিই। কিছুদিন আগে লবণের দাম বাড়লেও এখন হঠাৎ কমেছে। দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে।’
লবণ চাষি সারোয়ার আলম বলেন, ‘মাঠে সাদা লবণের চাহিদা বেড়েছে। পলিথিন ব্যবহারের ফলে আমরা সাদা লবণ পাচ্ছি। পলিথিন ব্যবহারের ফলে সাদা লবণের দাম একটু বেশি পড়ে। অন্যদিকে নদী ভরে যাওয়ার কারণে জোয়ার ভাটায় প্রভাব পড়েছে লবণের ওপর।’
লবণ চাষি জাফর আলম বলেন, ‘এখন লবণ উৎপাদনে আমাদের ব্যয় বেড়েছে, তাই কোম্পানিদের খেয়াল রাখতে হবে, যেন লবণ চাষ বন্ধ করতে না হয়। ন্যায্যমূল্যে যেন মাঠ থেকে লবণ কেনা হয়। না হয় ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমরা।’
মোল্লা সল্টের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মামুনুর রশীদ বলেন, ‘লবণ উৎপাদনে গুণগত মান বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পানি কম দিয়ে লবণের দানা পরিপক্ব করতে হবে।’
মোল্লা সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘লবণ সাদা করতে হবে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে লবণ উৎপাদন ভালো হয়। প্রাকৃতিকভাবে মাটির গুণাগুণ ভালো হওয়ায় লবণ ভালো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠ থেকে লবণের প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। এজন্য দরকার সঠিক প্রশিক্ষণ। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ভালো লবণ উৎপাদন করতে পারলে আমরা পারবো না কেন? আমাদেরও করতে হবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন মোল্লা সল্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান মোল্লা, জেনারেল ম্যানেজার বিদ্যুৎ চন্দ্র গুপ্ত, আব্দুল মান্নান, অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার হেলাল উদ্দিন ও অ্যাসিসট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মামুনুর রশীদ প্রমুখ।
বিসিকের দেওয়া তথ্যমতে, গত মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩ লাখ ৫৭ হাজার টন। উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার টন। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ লাখ ৮৫ হাজার টন। গত মৌসুমে ৬৩ হাজার ২৯১ একর জমিতে লবণ চাষ হয়, এবার প্রায় সাড়ে ৬৬ হাজার একর জমিতে চাষ হয়েছে।








