বই পড়ার অভ্যাস কেড়ে নিয়েছে ফেসবুক ও মোবাইল উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘এটি বড় যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা বই পড়ার চেয়ে মোবাইল ও ফেসবুকে মগ্ন। এখান থেকে আমাদের কিশোর-তরুণদের রক্ষা করতে হবে। বই পড়ার ওপর জোর দিতে হবে। না হয় আমরা ভবিষ্যতে এমন একটি প্রজন্ম পাবো, যেই প্রজন্ম হয়তো প্রযুক্তিতে অনেক সমৃদ্ধ হবে, তবে জ্ঞানে সমৃদ্ধ হবে না। প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হওয়া আর জ্ঞানে সমৃদ্ধ হওয়ার মাঝে পার্থক্য আছে। সেজন্য বই মেলার আয়োজন।’
মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়ামে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আয়োজিত ২১ দিনব্যাপী একুশে বই মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির মুখে দুর্নীতির অভিযোগের কথা শুনলে গাধাও হাসে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যারা নিজেদের দুর্নীতির কারণে পরপর বাংলাদেশকে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন করেছিল, তারা কারা? তারাই বিএনপি। দুর্নীতির ও টাকা পাচারের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের শাস্তি হয়েছে। লুটের টাকা বিদেশে পাচার করায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এফবিআই এসে বাংলাদেশে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিএনপি বিশ্ব চোরের উপাধি পেয়েছিল। সেই বিশ্বচোর বিএনপি যখন দুর্নীতির অভিযোগ করে তখন শুধু মানুষ নয়; গাধাও হাসে, হনুমান ভেংচি কাটে।’
বই পোড়ানো যেমন অপরাধ, না পড়াও অপরাধ জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ প্রথা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চালু করেছেন। গত এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রতি বছর ৩৫ কোটির বেশি বই বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল আর কোনও দেশে এমন ব্যবস্থা চালু নেই। যেটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন চালু করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।’
রাজনীতির নামে বই পোড়ানোর ঘটনা পৃথিবীর কোনও দেশে ঘটেছে কিনা সন্দেহ আছে উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে ২০১৪ সালে নতুন বই সংরক্ষিত ছিল স্কুল ঘরে। সেই বইয়ের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৫০০ স্কুল ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল। নির্বাচন প্রতিহতের নামে এই কাজটি করেছে বিএনপি এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট। শিক্ষার্থীদের বই নয়, সেদিন তাদের ভবিষ্যৎ পুড়িয়ে দিয়েছে তারা। সেই পোড়া বই বুকে জড়িয়ে শিক্ষার্থীরা আহাজারি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন সময়ও ছিল প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষ যখন শুরু হতো তখন দরিদ্র ঘরের অভিভাবকরা অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের কাছে ধরনা দিতো তার ছেলের পুরনো বইগুলো সংগ্রহ করার জন্য। এটি ছিল নিয়মিত ঘটনা। সেই ঘটনা এখনও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আছে। কিন্তু আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে নতুন বই দেওয়ার প্রথা চালু করেছেন।’
বই মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বই পড়া ছাড়া মানুষের জীবন সমৃদ্ধ হয় না। যারা পৃথিবী বদলে দিয়েছে, মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে, সাহিত্য বদলে দিয়েছে, পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দিয়েছে, তারা সবাই বই পড়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। আগে পাড়ায় পাড়ায় লাইব্রেরি ছিল, মানুষ বই পড়তো। এখন তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে সেই অভ্যাস নেই।’
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা এমপি। এতে বক্তব্য রাখেন অমর একুশে বইমেলা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক কাউন্সিলর ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী শেখ মো. তৌহিদুল ইসলাম।








