লক্ষ্মীপুরে নিহত মো. সজিব হোসেন যুবদল কিংবা কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী নন বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন। সেইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। বুধবার (১৯ জুলাই) বিকালে শহরের লুবনা কটেজে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান তিনি।
এ সময় সংসদ সদস্য নুরউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘পূর্ব বিরোধের জেরে একজন পথচারী সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছেন। আমরা জেনেছি, তার কোনও রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তিনি টাইলস মিস্ত্রি। মঙ্গলবার বিএনপির কর্মসূচি চলাকালীন বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ওই যুবক নিহত হওয়ার পর গভীর রাতে বিএনপি তাকে নিজের দলের নেতা দাবি করেছে। সেইসঙ্গে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগকে দায়ী করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই হত্যা নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতেছেন বিএনপির নেতারা।’
যেভাবেই হোক এই হত্যা ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে এমপি নয়ন বলেন, ‘আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে সঠিকভাবে তদন্ত করে হত্যায় জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
গত কয়েক বছর সারা দেশের মতো লক্ষ্মীপুরেও সরকারের উন্নয়ন ও শান্তির সুবাতাস বইছে উল্লেখ করে নুরউদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, ‘এমন শৃঙ্খল পরিবেশে জীবনযাত্রায় যখন জেলাবাসী স্বস্তিবোধ করছেন, ঠিক তখন বিএনপি এই জনপদকে অশান্ত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি নেতারা সভা-সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সিনিয়র নেতাদের বিদ্রুপ করে বক্তব্য দেন। অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলেন। এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মীদের সহিংস হতে উসকানি দিচ্ছেন বিএনপির নেতারা। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে লক্ষ্মীপুর সন্ত্রাসের জনপদ ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে। এজন্য লক্ষ্মীপুরবাসী এখন আওয়ামী লীগের ওপর আস্থাশীল। সেজন্য বিএনপির সইছে না। তাই লক্ষ্মীপুরকে আবারও অশান্ত করে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যেতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। দয়া করে শান্ত জনপদকে অশান্ত বানানোর ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকুন।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ‘দুই দলের কর্মসূচি ছিল। আওয়ামী লীগ শহরের উত্তর তেমুহনি এলাকায় শান্তি সমাবেশ করেছিল এবং বিএনপি দক্ষিণ তেমুহনি থেকে ঝুমুর এলাকায় পদযাত্রা কর্মসূচি করেছিল। এ অবস্থায় ওই সময়ে কলেজ রোডে আমাদের কিংবা তাদের দলীয় কর্মসূচিতে কারও যাওয়ার কথা নয়। তাহলে রাজনৈতিক সহিংসতায় সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটার সুযোগ থাকে না। ব্যক্তিগত কারণে বিচ্ছিন্ন ঘটনায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। যারাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকুক, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহমেদ পাটোয়ারী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ ভূঁইয়া মান্না, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সালাহ উদ্দিন টিপু ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল।
এর আগে মঙ্গলবার বিকালে বিএনপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে জেলা শহরের সামাদ মোড় সংলগ্ন কলেজ রোডের পুকুর পাড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর মদিন উল্লাহ হাউজিংয়ের একটি বাসার সিঁড়িরুম থেকে লাশটি উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। নিহতের নাম মো. সজিব হোসেন। তিনি সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলে দাবি করেছেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম লিটন।









