নিরাপত্তার অজুহাতে ১৯৮৫ সাল থেকে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হতে ৮১টি গুচ্ছগ্রামে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি পরিবার নিয়ে আসে সরকার। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নিজ জায়গায় ফিরতে পারেনি এসব পরিবার। এদিকে দীর্ঘ ৩০ বছরে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মানবেতন জীবনযাপন করতে হচ্ছে। নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নিতে সরকার বা প্রশাসনের কোনও পদক্ষেপ না থাকায় হতাশা বিরাজ করছে গুচ্ছগ্রামগুলোয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০-৮১ সালে তৎকালীন সরকার খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে লক্ষাধিক ভূমিহীনকে পুনর্বাসিত করে। বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি পাহাড়ে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস)। সংগঠনটির সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনী তখন পুনর্বাসিত এসব পরিবারের উপর হামলা ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ শুরু করে। ফলে প্রাণহানি ও সম্পদহানি হওয়ার ঘটনা হয়ে পড়ে নিত্য নৈমিত্তিক। ফলে পুনর্বাসিত এসব পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা এসব লোকজনকে ৮১টি গুচ্ছগ্রামে নিয়ে আসে সরকার।
এরপর গুচ্ছগ্রামেই কেটেছে তাদের ৩০ বছর। পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি গুচ্ছগ্রামে আবদ্ধ অসহায় এসব লোকের। মাঝে মাঝে তারা সেসব জায়গায় ফিরতে চাইলে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভুয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের পুনর্বাসিত প্রজা আবদুল আজিজ আকন্দ বলেন, সরকার তাদেরকে যে ভূমি বন্দোবস্ত দিয়েছে তা থেকে গেছে কাগজে-কলমে। মৌলিক অধিকার কী এসবও বোঝেন না তারা। প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকায় দীর্ঘ ৩০ বছর পরেও নিজেদের বাসভূমিতে ফিরতে না পারায় তারা হতাশ।
দিঘীনালা উপজেলার পুনর্বাসিত প্রজা মো. আবুল হোসেন বলেন, গত ৩০ বছর তারা গুচ্ছগ্রামে আছেন, রেশন খাচ্ছেন। যখন গুচ্ছগ্রামে আসেন তখন পরিবারের লোক ছিল মাত্র দুইজন। আর এখন সদস্য সংখ্যা আটজন। কিন্তু এখনও তারা গুচ্ছগ্রামে আবদ্ধ এবং মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তিনি জানান, নিরাপত্তার নামে তাদেরকে গুচ্ছগ্রামে আবদ্ধ করা হয়েছে। তাদের রেশনের প্রয়োজন নেই। তারা খুবই কষ্টে আছেন। তারা তাদের জায়গায় ফিরতে চান।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সেনসেটিভ। তাই এ নিয়ে কিছু বলতে চান না।
তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, গুচ্ছগ্রামে বসবাসের কারণে পুনর্বাসিতদের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি রেশনিং এর কারণে সরকারেরও লোকসান হচ্ছে। তবে গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারীদের নিজ জমিতে পুনর্বাসনের বিষয়ে বর্তমান সরকার আন্তরিক। সকলের সহযোগিতায় এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদি।
/বিটি/এইচকে/








