রাঙামাটির লংগদুতে প্রতি বছর ব্যাপক ফসলি জমি গ্রাস করে নিচ্ছে পরিবেশ বিনষ্টকারী তামাক। এ বছর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ করা হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ দাবি করলেও বাস্তবে দেখা গেছে, তামাক চাষের পরিধি বেড়েছে এর চেয়েও কয়েকগুণ বেশি।
বিভিন্নসূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় প্রায় এক হাজার একর জমিতে তামাক চাষ করা হয়। প্রশাসনের তেমন নজরদারি না থাকার সুযোগে এ বছর চাষের পরিধি অনেক বেড়েছে। তামাক কোম্পানিগুলোর প্রলোভনে পড়ে কৃষকরা প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে এবছর তামাক চাষ করেছে। প্রতি বছর তামাক চাষের আগ্রাসনে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এতে চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা উপজেলার কৃষি জমি ও খাদ্য নিরাপত্তার। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকা এ উপজেলায় চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছেন সচেতন মহল।
উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের রাঙ্গিপাড়া, বৈরাগীবাজার, ঠেকাপাড়া, পেটাইন্যামাছড়া, কালাপাকুজ্জা, আটারকছড়া, বামেছড়া, রেঙ্গকাইজ্জা, ইয়ারিংছড়ি এলাকায় গত থেকে ৬ বছর ধরে ফসলি জমি গ্রাস করে নিচ্ছে তামাক চাষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সভা, সেমিনারে গুরুত্বারোপ করা হলেও কৃষকদের পক্ষ থেকে তামাক চাষ বন্ধে কোনও ধরনের আগ্রহ চোখে পড়ছে না।
অভিযোগ রয়েঝে, অনেক এলাকায় জনপ্রতিনিধিরাও পরিবেশ বিধ্বংসী এ চাষকে সমর্থন দিচ্ছেন। আটারকছড়া ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের তামাক চাষি নুরু মিয়া বলেন, তামাক চাষ অধ্যুষিত এলাকায় জমির মালিকরা (জমিদার) ধান ও মৌসুমী সবজি আবাদের জন্য জমি বর্গা দেয় না, কারণ এক কানি (৪০ শতক) ফসলি জমি দুই খোন্দ (এক বছর) বর্গা দিয়ে ১০ হাজার টাকা পেলেও একই জমি থেকে তামাক চাষের ক্ষেত্রে বর্গা দিয়ে পান ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলে কৃষকরা জমি বাধ্য হয়ে অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
তামাক চাষের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে জড়িত এনজিও সংস্থা পুগোবেল’র সমন্বয়ক মনিশংকর চাকমা বলেন, এ বছর লংগদুতে প্রায় এক হাজার একর জমিতে তামাকের চাষ হয়েছে। এর পরিধি আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, তামাক চাষের কারণে জমিতে অতিরিক্ত সার, কীটনশক প্রয়োগের ফলে উর্বরতা শক্তি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। কমছে আবাদি জমির পরিমাণ। এটা বন্ধ করা না হলে আমাদের এলাকার কৃষি ও কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন বিপন্ন হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমএম শাহনেয়াজ বলেন, তামাক চাষ বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে এ বছর গত বছরের চেয়ে কম পরিমাণ জমিতে তামাক চাষ হয়েছে বলে দাবি করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
/এআর/








