নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছাত্রদল আয়োজিত ‘জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা’ মঞ্চে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মাহবুব আলম দুলাল। তিনি কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি ও মঞ্চে বসা নিয়ে সৃষ্টি হয় সমালোচনার।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হল মিলনায়তনে উপজেলা, পৌরসভা ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় কবিরহাট উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ছাত্রদল।
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ও কবিরহাট পৌরসভা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন মামুনের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রায়হান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কবিরহাট উপজেলার একাধিক বিএনপি নেতা জানান, ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকে মঞ্চে বসতে দেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টিকটু। সেখানে তো উপজেলা বিএনপি অনেক নেতাকর্মী ছিলেন। যারা আওয়ামী লীগকে নানানভাবে পুনর্বাসন করছেন তাদের বিষয়ে দলের হাইকমান্ডের উচিত সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, ‘আমরা প্রতি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদেরও দাওয়াত করেছি। মাহাবুব আলম দুলালের এক নাতনি জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হওয়ায় অভিভাবক হিসেবে উনি এসেছেন। উনি এসে নিজ থেকেই স্টেজে বসেছেন। আমরা ওনাকে অতিথি হিসেবে দাওয়াত করিনি।’
কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোনও আওয়ামী লীগের নেতাকে দাওয়াত করিনি। যেহেতু এটা ছাত্রদলের অনুষ্ঠান, সেখানে বিএনপির অনেক নেতাকেও দাওয়াত করা সম্ভব হয়নি। তবুও অনেকেই এমপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। সম্ভবত উনিও এমপি সাহেবের সঙ্গে দেখা করতে এসে স্টেজে বসেছেন। সিনিয়র মানুষ হওয়ায় আমরা বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে চিন্তা করিনি।’
নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তো স্থানীয় অনেককে চিনি না। যারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে তারা ওই লোককে আমার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় করিয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকে কেন মঞ্চে বসানো হয়েছে সেটি আমি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞেস করবো।’









