সাজেকে সড়ক অবরোধ করলো কারা? কীভাবে ফিরবেন দেড় হাজার পর্যটক

রাঙামাটি প্রতিনিধি
১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৩ আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৩

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে স্থানীয় সংগঠনগুলোর ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটকবাহী গাড়িবহর ও সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে সাজেকের রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কটিতেও যান চলাচল বন্ধ আছে। তাদের অবরোধের মুখে দুই দিকে আটকা পড়েছে দুই শতাধিক পর্যটকবাহী গাড়ি। এসব গাড়িতে অন্তত দেড় হাজারের বেশি পর্যটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মসূচির সমর্থনে সকাল থেকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় যান চলাচলে বাধা দেন অবরোধকারীরা।

পথে আটকা গাড়ির বহর

উপজলা প্রশাসন ও পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে খাগড়াছড়ি ও সাজেক সড়কের উভয় দিক থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো সড়কের গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এর মধ্যে সাজেক থেকে ফেরা অন্তত দেড় শতাধিক গাড়ি ও সাজেকের উদ্দেশ্যে যাওয়া অর্ধশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন পর্যটকরা। বিকাল ৪টা পর্যন্ত সেখানে আটকে ছিলেন তারা। কবে নাগাদ অবরোধ খুলবে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের নিয়ে গাড়িগুলো গন্তব্যে রওনা হয়েছিল। আটকে পড়া গাড়িগুলোর মধ্যে সাজেক থেকে ছেড়ে আসা দেড় শতাধিক গাড়ি, মাহিন্দ্র ও মোটরসাইকেল এবং খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকগামী ৫৮টি যানবাহন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অবরোধের সমর্থনে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। এ সময় যান চলাচলে বাধা দেওয়া হয় এবং গাড়িগুলো আটকে দেওয়া হয়। 

একাধিক পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গঙ্গারাম বাজার, রেতকাবা মুখ ও উজোবাজার এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়ি আটকা পড়েছে। অবরোধকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে অবরোধের কারণে গাড়িগুলো সামনে এগোতে পারেনি। এ অবস্থায় পর্যটকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

কারা অবরোধ করেছে সড়ক

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হুমকির অভিযোগ তুলে তাদের বিচার এবং স্থানীয়দের নিরাপত্তার দাবিতে ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ এই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাক দিয়েছে। 

গাড়িগুলো সড়কের গঙ্গারাম বাজার ও উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে পড়ে

আজ ভোর ৬টা থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে (যেমন—গঙ্গারাম বাজার, রেতকাবা মুখ, উজোবাজার ইত্যাদি) গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করা হয়। সড়ক আটকে রাখা হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কর্মীরা সাজেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। তারা স্থানীয় মানুষকে প্রতিনিয়ত হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে এ কঠোর কর্মসূচি পালনে বাধ্য হয়েছেন তারা।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, ‘সকাল ৬টা থেকে আমাদের পূর্বঘোষিত সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। তবে বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংকারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’

পর্যটকদের বেহাল অবস্থা

হঠাৎ সকাল থেকে এই অবরোধের ফলে সাজেকে ও যাতায়াতপথে দেড় হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েন। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এবং বিশেষ স্কর্ট বা পাহারার ব্যবস্থার মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যা এখনও সচল হয়নি।

কুমিল্লা থেকে সাজেকে যাওয়ার পথে আটকে পড়া পর্যটক মো. নাইম ইসলাম বলেন, ‘আমরা বান্দরবানে ছিলাম। অবরোধের বিষয়টি সকালে খাগড়াছড়ি আসার পর জেনেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি সঙ্গে থাকায় আমরা সাজেকে যাচ্ছিলাম। তবে উজোবাজার এলাকায় আটকে আছি। কখন তারা সড়ক অবরোধ ছাড়বে আর কখন আমরা সাজেকে যেতে পারবো, বুঝতেছি না। বিকাল ৪টা পর্যন্ত আমরা ওখানে আটকে আছি।’

ভরা মৌসুমে কেন এমন অবরোধ

খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা বলেন, ‘এখন পর্যটকের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি মাহিন্দ্রা ও জিপে করে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক সাজেকে যান। রবিবার সকালেও হাজারো পর্যটক খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে অবরোধের কারণে তারা বাঘাইহাটের পর আর যেতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বেলা আড়াইটার দিকে পর্যটকদের সাজেকে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও সেগুলোও আটকা পড়েছে।’

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা বলেন, ‘অবরোধের খবর শুনে গতকাল কিছু পর্যটক সাজেক ছেড়ে গেছেন। আবার নতুন কিছু পর্যটকও এসেছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন। যারা গেছেন, তারা সড়কে আটকা পড়েছেন।’

যা বলছে পুলিশ

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কের উভয় দিক থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকদের গাড়িগুলো গঙ্গারাম বাজার, রেতকাবা মুখ ও উজোবাজার এলাকায় আন্দোলনকারীদের অবস্থান নেওয়ার কারণে আটকা পড়েছে। আমরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত গাড়িগুলো ছাড়ানোর ব্যবস্থা করতেছি। এখানে আটকে পড়ায় কয়েক পর্যটক দুর্ভোগে পড়েছেন। আমরা আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

 

/এএম/ 
সম্পর্কিত
পাথরের স্তূপে হারাচ্ছে নদীর সৌন্দর্য, সংকটে পর্যটন ও হাজারো শ্রমিকের জীবিকা
সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু, বন্ধ যাতায়াত
সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতে নতুন সময়সূচি
সর্বশেষ খবর
৩৫টি কেনার উদ্যোগ, মন্ত্রী বললেন ‘আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি’
৩৫টি কেনার উদ্যোগ, মন্ত্রী বললেন ‘আমি চাই দেশে বিমান থাকবে ২০০টির বেশি’
মিয়ানমারে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে তরুণদের, ‘বিক্রি’ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে
মিয়ানমারে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে তরুণদের, ‘বিক্রি’ হচ্ছে সেনাবাহিনীতে
ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে সক্ষম, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে
ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে সক্ষম, রাশিয়া অস্ত্র সরবরাহ করছে
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সর্বাধিক পঠিত
ম্যাকবুক উপহার দি‌য়ে জার্মান পর্যট‌কের দুঃখ ঘোচা‌লেন একজন
ম্যাকবুক উপহার দি‌য়ে জার্মান পর্যট‌কের দুঃখ ঘোচা‌লেন একজন
আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন: কেয়া পায়েল
আলহামদুলিল্লাহ, আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন: কেয়া পায়েল
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, কার ডাকে কক্সবাজার গেলো কিশোরী?
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা, কার ডাকে কক্সবাজার গেলো কিশোরী?
মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম
মৌখিক পরীক্ষা না দিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় বিএনপি নেতার স্ত্রীর নাম
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা
বাস নিয়ন্ত্রণে এবার রাস্তায় মালিকরা