কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি হোটেলের কর্মচারী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই স্কুলছাত্রী কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে ওঠেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, হোটেলটিতে অবস্থান করতে রাজু তাকে সাহায্য করেছিল। পরদিন বুধবার বেলা ১১টার দিকে হোটেল ছেড়ে যায় তাজমিন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চালক সুমন তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার নির্জন একটি স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়।
লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় চালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার মোবাইল ফোনের কল তালিকা ও অন্য ডিজিটাল প্রমাণাদি নিয়ে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকাজ সম্পন্ন হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।