লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার দুদিন পর মো. হেলাল (৩৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। হেলাল ওই ইউনিয়নের শ্রীধরপুর গ্রামের আমিন উদ্দিন জমদ্দার বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি আথাকরা বাজারে চায়ের দোকান চালাতেন। গত সোমবার রাতে আথাকরা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নোয়াখালীর মাইজদি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার হেলালের মা স্ট্রোক করেন। তাকে নোয়াখালীর মাইজদীতে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাতে আথাকরা বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় মাইজদীর উদ্দেশে রওনা হন তারা। পথে স্থানীয় মুন্সী রাস্তার আগে সড়কের পাশে বাঁশবোঝাই একটি গাড়ি থেকে ছিটকে আসা বাঁশ হেলালের চোখে ঢুকে যায়। এতে গুরুতর আহত হন।
তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখ থেকে বাঁশের অংশ বের করা হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনার সময় হেলালের মা, বোন ও মেজো ভাবি আহত হন। তারা মাইজদীতে একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ আলম বলেন, হেলাল আথাকরা বাজারের একজন পরিচিত মুখ ও ভালো মানুষ ছিলেন। মাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। আহত অবস্থায় দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ছেলেটি মারা গেলো। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনও অভিযোগ দেয়নি।’