মাদারীপুরের মোস্তফাপুর থেকে মাদারীপুরের কুলপদ্বী পর্যন্ত টু-ফোর-টু লেনের কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও যেনতেনভাবে কাজের অভিযোগ উঠেছে। দুই মাসে অন্ততপক্ষে সাতবারের বেশি সরেজমিনে গিয়ে তুলে আনা হয়েছে এসব অব্যবস্থাপনা ও অনুন্নত কাজের ফুটেজ যা প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
মোস্তফাপুর থেকে প্রথম দুই কিলোমিটার সিদ্দিখোলা পর্যন্ত কাজের প্রথম দিকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার এবং পরে পুরনো সড়কের ওপরের অংশের পুরনো পিচ ঢালাইযুক্ত পুরনো খোয়া দিয়ে বর্তমানে তার ওপর নদী থেকে উত্তোলনকৃত ভিটিবালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। অথচ পাথরের খোয়ার সঙ্গে আস্তর বালু দিয়ে কাজ করার কথা ছিল বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের কাজ শুরুর পর গাছগুলো কাটা হলে মোস্তফাপুর থেকে মাদারীপুরের দিকের ডানপাশে সড়কের বর্ধিত অংশের কাজ শুরু হয়। বর্ধিত অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করার নিয়ম থাকলেও সেখানে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।
এরপর পুরনো সড়কের সমান্তরালেই দুই লেনের কাজ শুরু হয়। এপ্রিল মাসে কাজের শুরু থেকে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। সেই খোয়া ও বালু রোলার দিয়ে সমান করার পর বেশ কিছুদিন কাজ ফেলে রাখা হয়।
২ জুন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সড়কের পুরনো অংশের ঢালাইকৃত পিচ ওঠানোর কাজ। একটি ট্রাক্টর মেশিন ও একটি এক্সেভেটর জাতীয় মেশিন দিয়ে সড়কের পুরনো অংশের পিচসহ পুরনো পাথর ও ইটের খোয়া আঁচড়ে তুলে ফেলা হচ্ছে।
এরপর সেখানে থেকে কিছু অংশ নিয়ে পাশের বর্ধিত অংশের ওপর বিছিয়ে রোলার দিয়ে সমান করা হয়। গত ৬ জুন সোমবার থেকে ঢালাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্থানীয় মনে করেন, সড়কের পুরনো অংশের পুরনো ঢালাইকৃত যে খোয়া-পাথর ওঠানো হয়েছে তা ভেতরে রেখেই তার ওপর পাথরের সঙ্গে নদী থেকে ওঠানো ভিটিবালু দিয়ে ভরাট করায়, পিচঢালাইয়ের পর করুণ পরিণতি পাবে এই সড়ক। কারণ পুরনো পাথর-খোয়াসহ পিচ ঢালাইকৃত অংশ দীর্ঘদিন সড়কের ওপরে পড়ে থাকায় তা নষ্ট হয়ে গেছে এবং এগুলোর উপরেই পিচ দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণ করায় তা অতি অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান হোসেন, আতাউর রহমান ও পথচারী সাইদুর জানান, এত বড় গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের কাজ এত নিম্নমানের হতে পারে তা কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। এই বিষয়ে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেন যে, সিডিউলে কি কাজগুলো এতো নিম্নমানের ভাবে করার কথা ছিল নাকি অন্য কিছু।
মোতাহার নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাথরের সঙ্গে নদী থেকে তোলা ভিটিবালু মিশিয়ে রাস্তা করতে কখনও দেখেছেন? এলজিইডি’র ছোট রাস্তাও এমন করে না। পাথরের বা সিলেট চান বালুতো কেউ চায়নি। এখানে যে নির্মাণ কাজে সাধারণ বা আস্তর বালু দেবে তা-ও দিচ্ছে না। মাদারীপুরের নদী ড্রেজার দিয়ে থেকে তোলা ভিটিবালু নামে পরিচিত তার সব অংশই কি বালু, এখানে তো (পলি) মাটির মত কাদাও রয়েছে।
এদিকে বুধ ও বৃহস্পতিবার সড়কের ওই অংশের কাজে তদারকিতে মাদারীপুর সড়ক ও জনপদ অধিদফতরের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে দেখা যায়নি। তাদের অনুপস্থিতিতেই সড়কের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে কাজের সময় উপস্থিত ওই দুই কিলোমিটার অংশের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী মহিউদ্দিন খান নাঈম দাবি করেন যে, পৌনে ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি কাজ সিডিউল অনুযায়ীই হচ্ছে।
এখানে কোনও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়নি এবং পুরনো সড়কের উপরিঅংশের ব্যবহার এবং নদীর বালু দিয়ে ভরাটসহ বিভিন্ন কাজ সিডিউল অনুযায়ীই হচ্ছে।
এদিকে মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, মোস্তফাপুর থেকে মাদারীপুর পর্যন্ত পুরো অংশই ফোর লেন করার জন্য মাদারীপুর থেকে ঢাকার সড়ক অধিদফতরের জোর তদবির চলছে। তাই মোস্তফাপুর থেকে সিদ্দিখোলা পর্যন্ত ওই দুই কিলোমিটারের কাজও আগামীতে ফোর লেনের অংশ হিসেবে কাজ হতে পারে।
আগামীতে ফোর লেন হলে পুরনো সড়ক নতুন করে তৈরি করতে হবে। তাই বলে বর্তমানের কাজ কেন নিম্নমানের হবে এবং যদি ওই দুই লেনের অংশে শীঘ্রই চারলেনের কাজ শুরু না হয় তাহলে এই ভোগান্তির দায়ভার কে বহন করবে এই প্রশ্ন উঠতেই পারে।
/এইচকে/








