শতভাগ ঈদ বোনাস ও ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবিতে অবরোধরত শ্রমিকদের ওপর গুলি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা সংলগ্ন নলজানী এলাকায় কোজিমা লিরিক গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে। এসময় কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে তিন শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।
শ্রমিকেরা জানান, শতভাগ ঈদ বোনাস এবং ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাসের দাবি করেছে কারখানার শ্রমিকরা। এ দাবিতে দুপুর সোয়া ১টার দিকে কারখানার সামনে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-জয়দেবপুর সড়ক অবরোধ করলে শিল্প ও থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কারখানার আয়রনম্যান রাশিদা (২৫), শ্রমিক সাবিনা (২৪) ও নাজমা (২৫) গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০জন আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক এনামুল কবির জানান, ওই কারখানার সাতজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুলিবিদ্ধ তিনজনসহ চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রমিকেরা আরও জানান, এক মাস আগে তারা শতভাগ ঈদ বোনাস এবং ৫০০ টাকা হাজিরা বোনাস প্রদানের দাবি জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে দাবি আদায়ের জন্য রাস্তায় নামেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানান, কোনও কারখানাতেই শতভাগ ঈদ বোনাস প্রদান করা হয় না। তারপরও আমরা ৭০ ভাগ ঈদ বোনাস প্রদানের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু শ্রমিকরা না বুঝেই বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন।
জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। তাদের সরিয়ে দিতে গেলে শ্রমিকেরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয় এবং কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে শ্রমিকদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।
আরও পড়ুন: ভারতের সঙ্গে চলছে জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
‘তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বাংলাদেশের’
/এমও/এমএসএম/








