প্রবল স্রোত আর ভাঙনের ফলে দৌলতদিয়ার চারটি ফেরি ঘাটই নদী গর্ভে চলে গেছে। ফলে গত রবিবার থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে রাজধানী ঢাকামুখী দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। নদীর পারের অপেক্ষা করছে পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।
রাজবাড়ী পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের পরিবর্তে যমুনা সেতু ও মাওয়া-কাওরাকান্দি ঘাট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছে না কোনও যাত্রীবাহী বাস।
দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের ১,২ ও ৪ নং ফেরি ঘাট ও পল্টুন নদী গর্ভে সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে। শুধু ৩নং ফেরি ঘাটটি চলছে লাইফ সার্পোটে। এদিকে পদ্মার করাল গ্রাসে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ অন্য জায়গায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টার দিকে ৩নং ফেরি ঘাটের একটি পকেটে চরম ঝুঁকি নিয়ে একটি ইউটিলিটি ফেরি রজনীগন্ধা ও একটি কে-টাইপ ফেরি কপোতী চলছে।
ফেরি দুটিতে শুধুমাত্র মুমূর্ষ রোগীর অ্যাম্বুলেন্স,ওষুধ সরবরাহ, প্রাইভেট কারসহ ঘাট ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার কাজে নিয়োজিত ছোট আকারের যানবাহনগুলো পারাপার করা হচ্ছে। ১ ও ২ নং ফেরি ঘাটের বর্তমানে কোনও অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। শুধু মাত্র সাইন বোর্ডগুলোই দৃশ্যমান।
দৌলতদিয়া ১নং ফেরি ঘাট এলাকার বাসিন্দা খোদেজা বেগম (৬০) বলেন, ‘বাবা যে ভাবে নদী ভাঙছে তাতে তো ঘাট সব গেছেই এখন আমাগোর থাকার জায়গাটুকুও নদীতে চলে যাবে। এখন আমাগো মাথা গোজার ঠাই নাই।’
স্থানীয় আইনুদ্দিন সেখ জানান, ‘ ভাই যদি শুকনা মৌসুমে নদীতে ভালো করে বালির বস্তা আর ব্লক ফেলতো তাহলে বর্ষায় নদী এতো ভাঙতো না। আমাদের বাড়ি ঘরও আগের জায়গাতেই থাকতো। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা কেউ আমাদের কোনও সাহায্য সহযোগীতা করেনি। আমরা খুব কষ্টে আছি।’
দৌলতদিয়া ঘাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,এভাবে ভাঙতে থাকলে আগামী সাত দিনের মধ্যে এক কিলোমিটার দূরের পাকা রাস্তাও নদীতে চলে যাবে। আর ঘাটের যে অবস্থা, তাতে কবে যে ফেরি চলাচল শুরু হবে তা কে জানে।’
৪ নং ফেরি ঘাটটি গত মাসের ২৭ তারিখে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে তলিয়ে গেছে। এরপর ঘাটটির সংস্কার কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসাদুজ্জামান শামীম। কাজ খুব ধীর গতিতে করছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
তবে এর ঠিকাদার জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ৪নং ফেরি ঘাটটি চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হবে।
এদিকে বিআইব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে থাকা ঘাটগুলো সচলের জন্য বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিটিএ যৌথভাবে সংস্কার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : জঙ্গি মোকাবিলায় মৌলভীবাজার সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার








