
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী মিশুক মুনীরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার। দুর্ঘটনার পর পাঁচ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয় এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ‘কাগজের ফুল’ এর লোকেশন দেখে ঢাকায় ফেরার পথে মাকিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে শেখ একিম উদ্দিনের বাড়ী। এই বাড়িতেই তারেক মাসুদ তার পরবর্তী সিনেমা ‘কাগজের ফুল’ এর চিত্রায়ন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কাজটি আর করা হলো না। বাড়িটি আজো তেমনভাবেই আছে। শুধু বেঁচে নেই স্বপ্নদ্রষ্টা।
দিনটি উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে সড়কের পাশে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের নামে স্থাপিত স্মৃতি স্তম্ভে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, আলোচনা সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের এই দিনে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার শালজানা গ্রামে কাগজের ফুল ছবির স্যুটিং স্পট দেখে ঢাকা ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে তারেক মাসুদ- মিশুক মুনীরকে বহনকারী মাইক্রোবাসের সঙ্গে বিপরীতমুখী চুয়াডাঙ্গাগামী চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে ঘটনাস্থলেই তারেক মাসুদ, মিশুক মুনীর, মাইক্রোবাস চালক মোস্তাফিজুর রহমান, প্রোডাকশন সহকারী মোতাহার হোসেন ওয়াসিম ও জামাল হোসেন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, শিল্পী ঢালী আল-মামুন ও তার স্ত্রী দিলারা বেগম জলি এবং তারেক মাসুদের সহকারী মনীশ রফিক আহত হন।
এ দুর্ঘটনায় করা মামলায় এখনও সাক্ষীদের অর্ধেকেরই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়নি। ৩৯ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলা পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা দায়রা ও জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আফছারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, মামলার কার্যক্রম প্রায় চার বছর ধরে চললেও মাত্র ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। সাক্ষীদের নামে সমন জারি হলেও তারা হাজিরা দিচ্ছেন না। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আগামীকাল রবিবার।
এ দুর্ঘটনায় বাসচালক জামির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ঘিওর থানার তৎকালীন এসআই লুৎফর রহমান। পরের দিনই গ্রেফতার হয় জামির হোসেন। পরে ১৭ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর ঢাকা-আরিচা মহাড়কের ২১টি স্পটকে ব্ল্যাক স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় করা হয় ডিভাইডারসহ চার লেন।
/এসটি/








