মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় লঞ্চডুবি ঘটনার দুই বছর আজ। ২০১৫ সালের এই দিনে পাটুরিয়া ঘাটের অদূরে মাঝপদ্মায় সারবোঝাই কার্গো জাহাজ নার্গিসের ধাক্কায় ডুবে যায় এমভি মোস্তফা। সেদিন লঞ্চডুবিতে নারী শিশুসহ ৮০ জনের মৃত্যু ঘটে। মর্মান্তিক এ ঘটনার দুই বছরেও বিচার হয়নি দোষিদের।
এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা হলেও ডিবির তদন্তাধীন মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মো. রবিউল ইসলাম।
এদিকে সেদিনের দুর্ঘটনায় নিহত ৭৯ জনের স্বজনরা তাদের লাশ নিজ এলাকায় দাফন করার সুযোগ পেলেও এদের মধ্যে এক নারীর মৃতদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে ১ লাখ ৫ হাজার আর মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
লঞ্চডুবির ঘটনায় স্বজন হারানোর কান্না থামলেও তাদের পরিবারের শূন্যস্থান কোনওদিন পূরণ হওয়ার নয়। যেমনটি হয়নি দুর্ঘটনায় নিহত শিবালয় উপজেলার ষাটঘর তেওতা গ্রামের রতন চন্দ্র সরকারের পরিবারের। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম রতন চন্দ্র পরিবারে আজ কালো মেঘের অন্ধকার। রতনের অবর্তমানে স্ত্রী আর একমাত্র ছেলে রাজিব সরকারের সংসার চলছে নিত্য অনটনে। ছেলে রাজিবের লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে।
এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে পদ্মা নদীতে এমভি নার্গিস-১ কার্গোর ধাক্কায় ৮০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সেই কার্গোর মালিক শুরু থেকেই ছিল ধরা-ছোয়ার বাইরে। কার্গোর মালিক সরকার দলীয় নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল শরিফের (প্রোটন)। তার অন্যতম প্রধান ব্যবসা জাহাজের।
জানা যায়, তার কার্গোটি ছিল ২য় শ্রেণির জলযান। এটি মূলত কোস্টার জাতীয় জলযান। একসময় এটি বালুবহনকারী ট্রলার হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরে মোডিফাই করে এমভি করা হয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ন অবৈধ।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নৌ সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো.ফরিদুল আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর শিবালয় থানা একটি আর বিআইডব্লিউটি-এর পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে শিবালয় থানার মামলাটি জেলা ডিবি পুলিশ তদন্ত করে ২০১৬ সালে সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ । কিন্তু দুই বছরেও অগ্রগতি নেই বিআইডব্লিউটি-এর পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার।
মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) রবিউল ইসলাম জানান, লঞ্চডুবির ঘটনায় শিবালয় থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলাটি ডিবি তদন্ত শেষ করেছে।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, তাদের পক্ষ থেকে তদন্ত সম্পন্ন করে সাতজনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নৌ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনটিও আলোর মুখ দেখেনি বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। এছাড়া সমুদ্র অধিদফতরের করা তদন্ত কমিটি এখনও তাদের তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়নি বলেও জানা গেছে।
লঞ্চডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছিল তিনটি। এরমধ্যে সমুদ্র অধিদফতর তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর প্রধান ছিলেন নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাজাহান। নৌ পরিহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুর রহমান। এছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের করা ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসলাম হোসেন।
/এআর/







