ফরিদপুর শহরের ডায়াবেটিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে সূর্য খাতুন (৬৫) নামের এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি চারদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। শুক্রবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে।
এই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত করেছেন নিহতের স্বজনেরা।
সূর্য খাতুনের স্বজনেরা জানান, তিনি গত ৭ মার্চ ডায়াবেটিক হাসপাতালে চতুর্থ তলায় ভর্তি থাকা হালিমা বেগম নামের তার এক স্বজনকে দেখতে আসেন। ওই দিনই রাত ৯টার দিকে রোগীর জন্য ওষুধ আনতে নিচে নামেন। এরপর থেকেই সূর্য খাতুন নিখোঁজ ছিলেন। এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় বৃহস্পতিবার নিহতের স্বজন ইসমাইল বেপারী একটি জিডি করে। হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ২ নম্বর লিফটের নিচ থেকে পচা গন্ধ বের হলে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেখানে একটি লাশটি দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এর কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, লিফটের নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনা তারা ভিন্নভাবে দেখছেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তারা। নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ করেন, সূর্য খাতুনকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। হত্যার আগে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের। তাছাড়া হাসপাতালের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা কী কারণে বন্ধ ছিল সেই প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আবদুস সামাদ জানান, লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। নিহত সূর্য খাতুনের বাড়ি ফরিদপুর শহরতলীর ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বারখাদা গ্রামে। তার স্বামীর নাম মৃত মোকছেদ খাঁ। ময়নাতদন্তের পর লাশটি নিহতের স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত কোনও মামলা হয়নি।
/এফএস/
আরও পড়ুন-
বজ্রপাত ঠেকাতে তালগাছ!
দুই যুগেও বাড়েনি কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা







