মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জাহাজ ‘এমভি একরাম’ বিক্রির চেষ্টা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২৯ জুন ২০১৭, ১৯:৫২আপডেট : ২৯ জুন ২০১৭, ২০:০৯

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত জাহাজ ‘এমভি একরাম’ (ছবি- নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি)

নূরে আলম ও জসিম নামে দুই ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত জাহাজ ‘এমভি একরাম’ কেটে বিক্রির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই )মোখলেসুর রহমান।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান জানান, ডুবুরি মোক্তারের অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে নূরে আলম ও জসিম নামের দুই ব্যক্তিকে জাহাজ কাটার কাজে পাওয়া যায়। তাদের কাছে কোনও ধরণের কাগজ পত্র না থাকায় জাহাজ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ  বিষয়ে কেউ মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যপারে বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডর আ. লতিফ জানান, এম ভি একরাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। এটা কাটা বা পরিবর্তন করা যাবে না।  মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে যারা জাহাজ কাটার চেষ্টা করেছে তারা মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে না। তাদের উদ্দেশ্য খারাপ। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, এমভি একরাম জাহাজটি ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর গোলাবারুদ বহনের কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধারা  চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে এটা ডুবিয়ে দেয়। ২০০৮ সালে বন্দরের সোনাকান্দা এলাকার মোক্তার হোসেন ডুবুরি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক থেকে নিলামে ক্রয় করে ডাকাতিয়া নদী থেকে একই বছরের ১৪ নভেম্বর জাহাজটি উদ্ধার করে। পরে ১৫ নভেম্বর জাহাজটি  নারায়ণগঞ্জ বন্দরের সোনাকান্দায় শাহেনশাহ’র ডকে এনে রাখে। পরে এ জাহাজটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সারা দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে দাবি উঠে। মুক্তিযুদ্ধাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে জাহাজটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পর থেকে জাহাজটি শাহেন শাহর ডক ইয়ার্ডেই  রক্ষিত আছে।

জাহাজটি ১৯৬৫ সালে হল্যান্ডে নির্মিত হয়। একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি রেজিস্টেশন হয় এমভি একরাম নামে। জাহাজটির মালিকায় ছিল ইউনাটেড ট্রেডিং করপোরেশন ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যাংক অব পাকিস্তান। স্বাধীনতার পর জাহাজটি বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের অধিনে চলে আসে।

/জেবি/

আরও পড়তে পারেন: ‘ক্রেজি বাইকার’দের দখলে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম