জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সোমবার মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ ঘরানার শিক্ষকরা। ওই মিছিলে অংশ নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক রাশেদা আখতার। তিনি ভাঙচুর ও লাঞ্ছনার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
গত ২৬ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসচাপায় নাজমুল হাসান রানা ও মেহেদি হাসান আরাফাত নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, নিরাপদ সড়কসহ অন্যান্য দাবিতে পরদিন ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। বিকালে অবরোধে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এর জেরে সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রাতেই ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মধ্যরাতে ১২ ছাত্রীসহ ৪২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন জামিনে মুক্তি পান তারা।
এ ঘটনায় ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক অসিত বরণ পালকে প্রধান করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সদস্যদের মধ্যে মিছিলে অংশগ্রহণকারী সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক রাশেদা আখতারও আছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলেরও প্রধান।
এদিকে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ওই তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘তার কাজ তদন্ত করা। তিনি যখন শিক্ষার্থীদের বিচার দাবি করেন তখন তার পক্ষপাততুষ্ট আচরণই প্রকাশ পায়।’
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র ও দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘এটা স্ববিরোধী অবস্থান। যিনি বিচার করবেন, তিনিই আবার বিচার দাবি করছেন। ফলে তার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যায় না।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক রাশেদা আখতার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি আগে শিক্ষক পরে তদন্ত কমিটির সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমারও একটা রাজনৈতিক পরিচয় আছে। সে পরিচয় প্রকাশের অধিকারও আছে। এর কারণে তদন্ত কাজ প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। ফলে এখানে সমালোচনার কিছু দেখি না।’
/বিএল/
আরও পড়ুন:








