গাজীপুরের শ্রীপুরে এক অন্তঃসত্ত্বা রোগীর অপারেশনে ব্যর্থ হয়ে তার স্বজনসহ জোরপূবর্ক ক্লিনিক থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে ক্লিনিকের মূল গেটে তালা লাগিয়ে পালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাওনা চৌরাস্তা নিউ পদ্মা অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অন্তঃসত্ত্বা অপারেশনের ওই রোগীর নাম রুসা আক্তার (২২)। তিনি মাওনা মধ্যপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী।
রোগীর স্বামী আব্দুস ছাত্তার জানান, শুক্রবার (২৯ জুলাই) তিনি তার স্ত্রীকে মাওনা চৌরাস্তা শাপলা মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করেন। সেখানে সন্তান মৃত হওয়ায় পরদিন শনিবার (৩০ জুলাই) চিকিৎসকেরা তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে রেফারড করেন। শাপলা মেডিকেল সেন্টার থেকে বের হওয়ার পরই পাশের নিউ পদ্মা অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কয়েকজন ব্যক্তি নিরাপদ চিকিৎসার কথা বলে ১৬ হাজার টাকার চুক্তিতে তার স্ত্রীকে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান।
সেখানে চারদিন ভর্তি রেখে বুধবার (২ আগস্ট) বিকালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সেলিনা আক্তার লিপি অপারেশন শুরু করেন। চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার দিকে অপারেশনে ব্যর্থ হয়ে দ্রুত তার স্ত্রীকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে জোরপূর্বক তার স্ত্রীসহ স্বজনদেরকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। পরে সেন্টারের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এসময় ভেতরে একজন রোগী ভর্তি ছিল। একটি অ্যাম্ব্যুলেন্স ডাকার সময় দেয়নি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষ। পরে রোগীকে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সেন্টার থেকে নেমে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাত সাড়ে ১১টায় সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ভর্তি করা হয়।
এদিকে খবর শুনে রাত ১১টার দিকে শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি বলেন, ঘটনা শুনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে ম্যানেজমেন্টের কাউকে পাওয়া যায়নি। মূল গেটে তালা লাগানো ছিল। একজন রোগী ভর্তি, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কয়েকজন স্টাফ পাওয়া গেছে। ম্যানেজমেন্টের লোকজনের মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়েছে।
নিউ পদ্মা অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তব্যরত ডা. নাভিদ তানজিম জানান, রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেন্টার থেকে বরে হতে সাহায্য করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ম্যানেজমেন্টের লোকজন যার যার দায়িত্বে বাইরে রয়েছেন।
/এআর/







