নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে একই পরিবারের ৫ জন খুনের মামলায় ভাগ্নে মাহফুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ হোসনে আরা আক্তারের আদালত আসামি মাহফুজের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, আদালত রায়ে মামি তাসলিমা হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড এবং লামিয়া, শান্ত, সুমাইয়া ও মোশারফ হত্যার দায়ে পৃথকভাবে মাহফুজের মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন।
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অল্প সময়ে এই রায় হওয়ায় আমরা খুশি। আমরা চাই দ্রুত মামলার রায় কার্যকর করা হোক।’
নিহত তাসলিমা বেগমের মা মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘আমরা চাই দ্রুত যেন ওর (মাহফুজ) ফাঁসি হয়। আমাদের দুনিয়াতে কিছুই রাখে নাই ও। বিনা দোষে আমার মেয়ে-নাতিনগুলোকে শেষ করে দিয়েছে। আমার সব শেষ করে দিয়েছে।’
এদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সুলতানুজ্জামান জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকায় ‘আশেক আলী ভিলা’ নামে একটি বাড়ির ফ্ল্যাটে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করে ভাগ্নে মাহফুজ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বাড়ির ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে তাদের লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন মাহফুজের মামি তাসলিমা আক্তার (৪০) তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ভাই মোরশেদুল (২৫) এবং তার জা লামিয়া (২৫)। এই ঘটনায় নিহত তাসলিমার স্বামী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ভাগ্নে মাহফুজ, ঢাকার কলাবাগানের ঋণদাতা নাজমা ও শাহজাহানের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। ওইদিন রাতেই মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন গ্রেফতার করা হয় শফিকুল ইসলামের ভাগ্নে মাহফুজকে। ২১ জানুয়ারি হত্যার দায় স্বীকার করে মাহফুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়ের ভাগ্নে মাহফুজকে আসামি করে অন্যদের অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৩ আসামি আদালতে সাক্ষ্য দেন। এর আগে গত ৩০ জুলাই এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ধার্য করেন।
/এসএনএইচ/বিএল/







