রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া ও দৌলতদিয়া-ফরিদপুর মহাসড়কের বেশিরভাগ জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানা-খন্দ। কোনও কোনও অংশ গ্রামের কাদামাখা রাস্তার মতো হয়ে গেছে। কয়েক কিলোমিটার অংশে পিচের অস্তিত্বই নেই। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন খুলনা, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা। জেলা সদরের মুরগির ফার্ম থেকে গোয়ালন্দ মোড় পর্যন্ত ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঢাকাগামী যাত্রীদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, সড়কের বসন্তপুর স্টেশন বাজার থেকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পর্যন্ত অংশ একেবারে নাজুক। ব্যস্ত এই মহাসড়কের ১৬ কিলোমিটার এলাকায় শত শত খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বসন্তপুর রেলক্রসিং এলাকার অবস্থা ভয়াবহ।
ফরিদপুরগামী মোটরসাইকেল চালক ডা. আবু সায়েম অরিন আলআমিন বলেন, ‘রাস্তার জায়গায় জায়গায় গর্ত। আর গর্তের মধ্যে পানি জমে আছে।’
রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মো. রুবেল বলেন, ‘মাঝে মধ্যে এসব রাস্তায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।’
ফরিদপুর থেকে পাংশাগামী ট্রাকচালক মো. শামীম বলেন, ‘দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফরিদপুর ও দৌলতদিয়া থেকে রাজবাড়ী যাবার সব রাস্তায় গর্ত। ঝাঁকুনিতে গাড়ির রিং ভেঙে পড়ছে।’
মোটরসাইকেল চালক সৈকত সোনামণি বলেন,‘বসন্তপুর রেল ক্রসিং এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। রাজবাড়ী বা ফরিদপুর যেতে এই এলাকা দিয়ে যেতে হয়। খুব কষ্ট ভোগ করছি।’
ঢাকা থেকে ফরিদপুরগামী ট্রাকচালক (ঝিনাইদহ -১১-০০৬৮) মিজান বলেন, ‘দৌলতদিয়া থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত পুরো রাস্তাটাই ভাঙা।’
বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘বসন্তুপুর রেলগেট এলাকার রাস্তা দিয়ে সন্তানদের নিয়ে স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়।’
ইজিবাইক চালক মো. মিন্টু সেখ বলেন, ‘বসন্তপুর এলাকা ও কল্যাণপুর এলাকার রাস্তায় ঝাঁকুনিতে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।’
রাজবাড়ী সড়ক উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আশিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ী সড়ক বিভাগের আওতাধীন গোয়ালন্দ মোড় থেকে কুষ্টিয়ার শিয়ালদহ পর্যন্ত আমাদের মোট রাস্তা ৪৮ কিলোমিটার এবং গোয়ালন্দ মোড় থেকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তা প্রসস্তকরণের কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের মাধ্যমে রাস্তা-ঘাট সচল রাখা হচ্ছে। ঠিকাদার কাজ করছে সুতরাং খুব বেশি দিন রাস্তা খারাপ থাকবে না। ৩-৪ মাসের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে। গাড়ি চলাচলে কোনও সমস্যা থাকবে না’।
তিনি আরও বলেন, ‘ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়া পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার রাস্তার জন্য দুইটি টেন্ডারের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে। ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ফরিদপুর-দৌলতদিয়া সড়ক ঠিক হবে। পরবর্তী কাজ চলমান থাকবে।’







