গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে শুরু হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বারুনী স্নানোৎসব ও মেলা। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২০৭ তম জন্মতিথি উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের সমাগমে বুধবার (১৪ মার্চ) বিকাল থেকে শুরু হয়ে এই উৎসব চলবে শনিবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত।
হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী শচিপতি ঠাকুর ও হেমাংশুপতি ঠাকুর এই স্নানোৎসবের উদ্বোধন করেন। এসময় পদ্মনাভ ঠাকুর, অমিতাভ ঠাকুর, সুব্রত ঠাকুর, সুচিপতি ঠাকুর শিবুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং স্নানোৎসব ও মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেলায় আসা ভক্তদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্নানোৎসব উপলক্ষে বসেছে মহাবারুনী মেলা। মেলায় কুটির শিল্পের সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির জিনিস, বাঁশের জিনিস, তাল পাখা, খাদ্য সামগ্রী, নাগর দোলনাসহ রয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য নানা আয়োজন। বিশেষ করে চিনির তৈরি বিভিন্ন পশু পাখি, শিশুদের খেলনা আকৃতির মিষ্টি অন্যতম। মেলায় হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের লাখ লাখ ভক্ত জড়ো হয়েছেন স্নান করে পাপ মোচনের জন্য।
হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী কাশিয়ানী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান ছাড়াও ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দিয়েছেন। হাতে লাল নিশান এবং ঢোল বাজিয়ে ও উলুধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পায়ে হেঁটে ভক্তরা ছুটে আসেন তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে।
পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সাইদুর রহমান খান জানান, অনুষ্ঠানটিকে সফল করতে দুইশ’ পুলিশ সদস্যের একটি শিফটিং তালিকা তৈরি কড়া হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। আগত লোকদের নিরাপত্তা ও অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য পুলিশ বাহিনী সর্বদা কাজ করবে। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, স্নানোৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে বড় ধরনের জমায়েত হয়, সেই কারণে ঠাকুরবাড়ির প্রবেশ পথে ও গুরুত্বপূর্ন স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।






