জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর গ্রামে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি বৃহস্পতিবার জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দাম্পত্য কলহের জের ধরে আত্মহত্যার এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
মৃতরা হলেন, আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ফকির পাড়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম (২০) ও তার স্ত্রী সোনিয়া বেগম (১৮)।
পারিবারিক ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, লোকমান হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম স্থানীয় জামালগঞ্জ বাজারের একটি পোল্ট্রি খামারের কর্মচারী। পার্শ্ববর্তী গ্রাম জয়পুরহাট সদর উপজেলার সাহাপুরের সোনিয়া বেগমের সঙ্গে বছর দেড়েক আগে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তারা সুখী ছিল। পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান তাদের কেউ কোনও দিন ঝগড়া করতে দেখেনি। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাইফুল নিজ বাড়ির শোবার ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে তার বড় ভাই শহিদুল ও ছোট ভাই আশরাফুল ঘরের দরজা খুলতে না পেরে ছাউনি দিয়ে ঘরে ঢুকে তাকে বের করে। ততক্ষণে সাইফুলের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই সাইফুলের মরদেহ আক্কেলপুর থানায় নিয়ে যায়। এ সময় সাইফুলের স্ত্রী বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পরিবারের লোকজন তাকে না পেয়ে ধারণা করে তিনি হয়তো বাবার বাড়ি সাহাপুরে চলে গেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি আমের গাছের সঙ্গে সাইফুলের স্ত্রী সোনিয়ার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার লাশও থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য দু’জনের মরদেহ জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিনো হয়েছে
সাইফুলের বাবা রোকমান হোসেন বলেন,‘প্রতিবেশীর কাছে ছেলে সাইফুলের আত্মহত্যার খবর শুনে আমি ছুটে এসেছি। ওদের স্বামী-স্ত্রী মধ্যে খুব মিল ছিল। ওরা তো খুব সুখী ছিল। কেন যে এমন হলো তা বলতে পারছি না।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান,‘স্বামী-স্ত্রী দু’জনের মরদেহ জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তারা আত্মহত্যা করেছে নাকি, মৃত্যুর অন্য কোনও রহস্য আছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আরাকান আর্মিতে যোগ দেওয়ার আহ্বানে পাহাড়ে আতঙ্ক








