বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আসন্ন ঈদ-উল-আজহা আগেই শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব নিটশিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিককে নিজ দায়িত্বে অথবা নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের শ্রম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। সোমবার (৬ আগস্ট) বিকেএমইএ’র সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান মালিকদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থিত বিকেএমইএ প্রধান কার্যালয়ে বিকেএমইএ অনুষ্ঠিত বিকেএমইএ এর পরিচালনা পর্ষদের মাসিক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় উল্লেখ করা হয়, চলতি মাসের ২১ অথবা ২২ তারিখে পবিত্র ঈদ উল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতনের পাশাপাশি আগস্ট মাসে যে কয়দিন কারখানা চলবে সে কদিনের বেতন এবং উৎসব ভাতা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। কোনও অবস্থায় কোনও প্রতিষ্ঠান এ সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটালে বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন। এছাড়াও শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া হবে। সরকারি ছুটির পর কারখানা খোলা রাখার প্রয়োজন হলে তা নিজ নিজ কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এবং একই সাথে বিকেএমইএ’কে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
অপরদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে এবং দেশের বর্তমান চলমান পরিস্থিতিকে পুঁজি করে যাতে কোনও স্বার্থানেষী মহল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য ব্যাবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বহিরাগত শ্রমিক নেতারা যেন কোনও সুযোগ নিতে না পারে এ জন্য প্রতিটি শিল্পকারখানার মালিককে নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক কর্ম পরিবেশ তদারকিসহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করেছেন বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান। এক্ষেত্রে ঈদের আগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং ঈদ-পরবর্তী সরকারি ছুটির দিনগুলো ছাড়া বিকেএমইএ’র তিনটি কার্যালয়ের (নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম) মনিটরিং সেল খোলা থাকবে। তাই বিকেএমইএ এর সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোনও ধরনের অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির এড়াতে তাৎক্ষণিক বিকেএমইএ কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্তরতদের জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে সব সদস্য প্রতিষ্ঠানসহ নিট সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সব দফতরগুলোকে লিখিত আকারে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিকেএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহম্মেদ, দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এহসানুল হক শামীম, সহ-সভাপতি (অর্থ) হুমায়ন কবির খান শিল্পী, পরিচালক মঞ্জুরুল হক, আবু আহম্মেদ সিদ্দিক, মোস্তফা জামাল পাশা, মজিবর রহমান, মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল, শাহাদাৎ হোসেন ভুইয়া সাজনু, খন্দকার সাইফুল ইসলামসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য নেতারা।








