টাঙ্গাইলের বাসাইলে এসএসসি’র নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। আর এতে খোদ উপজেলার লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার ও এক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরজু জমাদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ। অনাদায়ে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সমিতির শিক্ষক নেতারা জানান, এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা পূর্ববর্তী সমিতির সভায় স্বচ্ছতার সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সমিতির সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অর্থের লোভে লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার গৃহ শিক্ষক আব্দুর রহিমের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। এতে পরীক্ষার নীতিমালা ভঙ্গ এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।
সমিতির নেতারা আরও জানান, গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি আরজু জমাদারের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মীর মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আরজু জমাদার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তার এ অপকর্মে সমিতি ও শিক্ষার মান নষ্ট হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ১৩ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় আরজু জমাদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তার সমিতির সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
লৌহজংগ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজু জমাদার প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বসে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করেছেন বলে দাবি করেন। এ সময় ‘আপনি যা লেখার লেখেন গা,’ বলে তিনি ফোন রেখে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্পর্শকাতর। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








