একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনের মধ্যে সাতটি আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ১৪ জনকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে কে আসবে তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি। কৃষকশ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী নাকি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান আসবেন সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আজ বুধবার (২৮ নভেম্বর) এ ব্যাপারে ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা।
অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি এক সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। এই আসন থেকে তিনি দুইবার বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করে উল্লেখ্যযোগ্য ভোট পেয়ে হেরে যান। এবারও এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়প্রত্যাশী তিনি। কিন্তু বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ায় আসনটি আহমেদ আজম খানের কাছ থেকে হাত ছাড়া হতে পারে বলে অনেকেরই ধারণা।
এদিকে জানা গেছে,আসনটি বঙ্গবীরের আসন হিসেবেই খ্যাত। মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি হিসেবে খ্যাত কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রায়াত শওকত মোমেন শাহজাহানের কাছে পরাজিত হন। পরে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকেই তিনি নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই আসন থেকে তিনি মোট দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলের বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেছিলেন,‘আপনি সারাজীবন অনেক ত্যাগ করেছেন কিন্তু যখন আপনার প্রাপ্তির সময় তখন কিছু পেলেন না, সে কষ্ট তো থাকবেই। কিন্তু রাজনীতিক কারণে সেটি আপনাকে ত্যাগ আবারো করতে হবে, এটাই নিয়ম।’
তিনি আরও বলেন,‘যে নেতাকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দেবেন, তাকেই আমি এই আসনটি ছেড়ে দেবো, এই মানসিকতা আমার আছে।’
জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা বলেন, ‘টাঙ্গাইলের আটটি আসনের মধ্যে সাতটি আসনে দুইজন করে মোট ১৪ জনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এ ব্যাপারে বিষয়টি নিয়ে আজ সিদ্ধান্ত হতে পারে।’







