বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বুধবার (১২ ডিসেম্বর) কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দফায় দফায় বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক পয়েন্টে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশসহ অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়েছে পুলিশ। শ্রমিক অসন্তোষের মুখে এদিন অন্তত ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুল ধারণা থেকে শ্রমিকরা অযৌক্তিকভাবে এ আন্দোলন করছে।
পুলিশ ও শ্রমিকদের কাছ থেকে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার সকালে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের শিল্পনগরী কোনাবাড়ি ও কাশিমপুরের তুসুকা ও ইসলাম গ্রুপসহ আশেপাশের অন্তত ১৫/১৬টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করে। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। এসময় তাদের সঙ্গে আশেপাশের আরও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা যোগ দেয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা দুপুরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও কোনাবাড়ি-কাশিমপুর সড়কের কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা কয়েকটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। এতে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়, দুই পাশেই আটকা পড়ে সারি সারি গাড়ি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সড়কের ওপর থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া শুরু করে। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শুরু হয় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরের দিকে পুলিশ শটগানের গুলি ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।
একইদিন সকাল থেকে একই দাবিতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাইনবোর্ড এলাকার ইস্ট ওয়েস্ট, প্রীতি সোয়েটার, ইন্টার স্টপ, রিয়াদ ও ম্যাট্রিক্সসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। পরে তারা মিছিল করতে করতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। সেখানেও সড়কের উভয় দিকে যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শিল্প পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের সঙ্গে সেখানেও পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের দুই সদস্যসহ ৭জন আহত হয়।
গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় শ্রমিকরা রাস্তায় যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের এএসপি মকবুল হোসেনসহ কয়েকটি কারখানার কর্মকর্তা জানান, ভুল ধারণা থেকে শ্রমিকরা অযৌক্তিকভাবে এ আন্দোলন করছে। সরকার ঘোষিত বেতন কাঠামোয় পোশাক কারখানার সিনিয়র জুনিয়র অপারেটরদের মূল বেতনসহ আনুসাঙ্গিক খাতের ভাতাদি বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল সিনিয়র অপারেটরদের ভাতাদি বৃদ্ধি করা হয়নি বলে গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনে ইন্ধন দেয়। এতে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়লে তারা অযৌক্তিকভাবে বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ ও আন্দোলন করে আসছে। তবে বেতনের টাকা হাতে পেলেই শ্রমিকদের ভ্রান্তি দূর হয়ে যাবে।








