জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এতদিন পর আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তবে মাফ করে দেবেন। আমরা ভালো মানুষ, আমাদের মনে দয়া আছে, আমরা মাফ করতে চাই। একইসঙ্গে আমরা বলি, আমাদেরও মাফ করুন; এখন পর্যন্ত যে অত্যাচার করেছেন।’
শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টায় নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা স্কুল মাঠে আয়োজিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সভা করার জন্য ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে আছি কেন? এখানে তো মঞ্চ হওয়ার কথা ছিল। সারা মাঠে মাইক থাকার কথা ছিল। সমস্ত বন্দরের লোক আজকের এই জনসভা শোনার জন্য তৈরি ছিল। এত কিছুর পরেও কি কথা শোনানো বন্ধ করা গেছে?’
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মনে করেছিলেন, সামনে ভোট। গতবার তো আরাম-আয়েশে, হেলে-খেলে ভোট করলেন। একটি ম্যাচে প্রতিপক্ষে আর কোনও টিম ছিল না। এরপর ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেন। মানুষের ওপর অত্যাচার চললো। বললেন, দেশে গণতন্ত্র কায়েম করছি।’
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘৫ বছর পর যখন আবার ভোট আসলো, এখনও মনে করছেন, আবারও গতবারের মতো, ২০১৪ সালের মতো প্রতিপক্ষ দল ওয়াকওভার দিয়ে যাবে, আমরা বলছি তা হবে না। এবার আমরা মাঠে আছি। এবারে খেলা হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশে যেখানেই গিয়েছি, সেখানেই সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। মিছিল করতে দেওয়া হয়নি। মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। প্রচারণা চালাতে দেওয়া হয়নি। মঞ্চ বানাতে দেওয়া হয়নি। মামলা-গ্রেফতার চলছে। তবু জনগণের কণ্ঠরোধ করতে পারেনি। আমরা জিতবোই।’
তিনি বলেন, ‘মা-বোন, ভাই-বন্ধু, বাবা-ছেলে সবাই আগামী ৩০ তারিখে ভোট দিতে যাবেন। ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে ভোট দিয়ে বাড়িতে ফিরে নাস্তা সেরে আবারও ভোটকেন্দ্রে যাবেন। এরপর ভোট গণনা শেষে বাসায় ফিরবেন।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘৫ বছর সহ্য করেছি। এখনও সহ্য করছি। ২৯ তারিখ পর্যন্ত সহ্য করবো। আমরা নিরীহ-শান্তিপূর্ণ মানুষ। শান্তির দেশ গড়তে চাই। তার জন্য জনগণের অধিকার চাই, ভোটের অধিকার চাই।’
তিনি বলেন, ‘গত ৫ বছরে দেশে অনেক লুট হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি হয়েছে, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চারটি বড় বড় ব্যাংক থেকে লুট করে টাকা খেয়ে ফেলেছে, তার কোনও ব্যবস্থা হয়নি। শেয়ারবাজার থেকে লুট করার ফলে অনেকগুলো মানুষ আত্মহত্যা করেছে, কোন ব্যবস্থা হয়নি। কত মানুষের জীবন গেছে, মা-বোনদের বুক খালি হয়েছে, গুম-খুন হয়েছে, বিচার হয়নি।’
গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন নির্ধারণ করবে, এদেশের মানুষ স্বাধীনভাবে বাঁচবে, না পরাধীনভাবে বাঁচবে। আজ শাসকশ্রেণির হৃদস্পন্দন যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের অত্যাচারও বাড়ছে। আমরা এক ঢাকার উন্নয়ন চাই না, সারাদেশের উন্নয়ন চাই। ঢাকার উন্নয়ন মানে দুর্নীতির উন্নয়ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কেন ক্ষমা চাইলেন? ক্ষমা চেয়েছেন, কারণ উনার সরকার হাজার হাজার মানুষকে বিনাবিচারে হত্যা করেছে। এটা কোনও স্বাধীন দেশের লক্ষণ নয়। আজ হাজার হাজার মানুষকে মিথ্যা, গায়বি মামলায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। এটা থেকে জনগণ আজ মুক্তি চায়। এটা থেকে জনগণ আজ মুক্তি চায়। জনগণ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায়।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালের সভাপতিত্বে সামবেশে আরও বক্তব্য রাখেন– বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুল আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী এস এম আকরাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসমী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী কাজী মনিরুজ্জামান মনির, সাম্যবাদী দলের সাঈদ হাসানসহ অনেকে।







