১৮ জানুয়ারি থেকে বন্ধ থাকা রাজবাড়ী জেলার জৌকুড়া-পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটের ফেরি চলাচল ১৫ দিনেও চালু হয়নি। নদীতে অলস পড়ে আছে রাজবাড়ী জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা দুইটি ইউটিলিটি ফেরি। ফেরির চালক ও ঘাট সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঘাটের কাছেই ড্রেজিং করে সেই বালু আবার ঘাট প্রান্তেই ফেলা হচ্ছে। এতে জেগে ওঠা চরের কারণে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
ইউটিলিটি ফেরি ৩৯ এর চালক (মাস্টার) মো. নায়েব আলী বলেন, ‘উত্তোলিত বালু পাবনার প্রান্তে না ফেলে জৌকুড়া ঘাট প্রান্তে ফেলা হচ্ছে। ঘাটের কাছে বালি ফেলায় চর জেগে উঠেছে। বর্তমানে পল্টুন থেকে ফেরি ৩০০ ফিট দূরে অবস্থান করছে। ফেরি চালাতে পারছি না।’
ইউটিলিটি সুগন্ধ্যা ৩৪ ফেরির চালক (মাস্টার) মো. ইয়াছিন মোল্লা বলেন, ‘জৌকুড়া ঘাটের যে অংশে চর জেগেছে, তা খনন করতে হবে। পল্টুনে ফেরি ভেড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া আমাদের ফেরি ঘাট বন্ধ থাকবে।’
ফেরি ব্যবসায়ী মো. আমিন বলেন, ‘রাজবাড়ী জেলার জৌকুড়া ফেরি ঘাটের সামনে যে ড্রেজিং মেশিন বসানো হয়েছে, তা দিয়ে ড্রেজিং করা বালি জৌকুড়া ফেরি ঘাটের পাশেই ফেলা হচ্ছে। সেই বালি গড়িয়ে চর জেগে জৌকুড়া ঘাটটি বন্ধ হয়ে গেছে। পাইপটা যদি ঘুরিয়ে বালিটা পাবনার প্রান্তে ফেলতো, তাহলে ঘাটের আজকের এই পরিণতি হতো না।’
স্থানীয় মো. গোলজার মন্ডল বলেন, ‘ড্রেজিংয়ের বালি জমে ঘাটটি অচল হয়েছে।’
ঘাটের ইজারা প্রতিনিধি মো. সোহেল রানা বলেন, ‘পদ্মা নদীতে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নাব্যতা কমে যাওয়ায় পল্টুন মাটিতে ঠেকেছে। পল্টুন থেকে নদী এখন ৩শ ফিট দূরে। ১৮ জানুয়ারি থেকে ফেরিসহ অনান্য নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ড্রেজিংয়ের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কিনা, তা স্টাডি ছাড়া বলা সম্ভব নয়। সংকট নিরসনে ঘাটটি স্থানান্তরের জন্য কাজ চলমান। অতি দ্রুত ঘাটটি আমরা চালু করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জৌকুড়া-পাবনা নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যাত্রা শুরু করেছিল।







