সেতুর নিচে বাঁধ, ক্ষতির আশঙ্কায় ২ হাজার কৃষক

রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর
১৪ জুন ২০১৯, ১৩:৫৪আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১২:৩০

সেতুর নিচে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামে একটি সেতুর নিচে বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। মাছ চাষ করতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ওই বাঁধ নির্মাণ করছেন বলে বরকুল গ্রামের কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

তারা বলছেন, বাঁধ নির্মিত হলে পানি প্রবাহ বাধা পেয়ে ইউনিয়নের গুরতা ও টুলি বিলের শতাধিক একর আবাদযোগ্য জমিতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কমপক্ষে দুই হাজার কৃষক। এ ব্যাপারে কৃষকরা জেলা মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বরকুল গ্রামের পল্লি চিকিৎসক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসীর সুবিধার্থে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির নিচে বাঁধ নির্মাণ করা হলে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে।’

লাল পতাকা দিয়ে বাঁধ নির্মাণের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ওই গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘বরমী-গফরগাঁও আঞ্চলিক সড়কে গুরতা বিলের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয় কৃষকদের স্বার্থে। বিলের মধ্যে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হলে মাত্র কয়েকজন লাভবান হবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কমপক্ষে ২ হাজার কৃষক। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী জমির মালিকের কাছ থেকে বাঁধ নির্মাণের অনুমতি নিয়েছেন। ইতোমধ্যে তারা সেতুর নিচে বাঁধ দিতে পাকা ড্রেন নির্মাণ করেছেন।’

কৃষক শামসুল হক বলেন, ‘গুরতা ও টুলি বিলে ছয় মাস ফসল উৎপাদন হয়। বাকি ছয় মাস গবাদি পশুর খাদ্য এবং দেশীয় প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয়রা। কিন্তু বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হলে তাদের বাজার থেকে চাল কিনে খেতে হবে। খাদ্যের অভাবে মারা যাবে গবাদিপশু।’

কৃষক জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘প্রভাবশালীরা বিলের মধ্যে লাল পতাকা উড়িয়ে সীমানা চিহ্নিত করেছেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মৎস্য বিভাগে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে; তারপরও বাঁধ নির্মাণকাজ সক্রিয় রয়েছে। বাঁধ দিলে বিলের পাড় ভেঙে যাবে।’

কৃষকদের অভিযোগপত্রের কপি বাঁধ দেওয়ায় অভিযুক্ত বরকুল গ্রামের নূরুজ্জামান বলেন, ‘বিলের জমির মালিকদের অনুমতি নিয়ে মাছ চাষের প্রস্তুতি চলছে। পাঁচ-ছয় জন মালিক মাছ চাষে বাধা দিচ্ছেন। তারাই বিভিন্ন দফতরে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

জেলা মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি জেলা মৎস্য কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠিয়েছেন তারা।

এদিকে, গাজীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া হায়দার চৌধুরী জানিয়েছেন, তিনি সেতুর নিচে বাঁধ নির্মাণের কোনও অভিযোগ পাননি। তবে এ রকম অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে, স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

/আইএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
দিল্লীতে আগুনে ৮ বাংলাদেশি আহত, গুরুতর অবস্থা তিন জনের
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান