নারায়ণগঞ্জের ড্রেজার পরিদফতর পরিদর্শন করে নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের অনিয়ম-দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতাধীন ড্রেজার পরিদফতর পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় ড্রেজার পরিদফতরের কার্যালয়, ওয়ার্কশপ, স্টোররুম, জাহাজ, ড্রেজারের দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা প্রতিমন্ত্রীর তোপের মুখে পড়েন।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে ড্রেজার পরিদফতরে প্রকৌশলীদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসেন প্রতিমন্ত্রী। এতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জসিমউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা, পাউবোর ডিজি মাহফুজুর রহমান, অতিরিক্ত ডিজি চিফ ইঞ্জিনিয়ার আজিজুল হক প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন নদী খনন প্রকল্পে নিয়োজিত ড্রেজার ও কয়েকটি প্রকল্পের ড্রেজার ক্রয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহিদ ফারুক। দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নেদারল্যান্ডস সরকার ১৯৭৪ সালে যে ড্রেজারগুলো উপহার দিয়েছিল, সেগুলো এখনও চলছে। কিন্তু সম্প্রতি যেসব ড্রেজার কেনা হয়েছে, সেগুলো কেন কিছুদিন পর বিকল হয়ে যাচ্ছে? নতুন গাড়ি কিংবা রিকন্ডিশন গাড়ি ক্রয় করা হলেও তো তা পাঁচ বছর পর্যন্ত ওয়ার্কশপে পাঠাতে হয় না। তাহলে আমাদের নতুন কেনা ড্রেজার কেন ওয়ার্কশপে পাঠাতে হয়?’
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ‘এত লোক বিদেশে ট্রেনিংয়ে যাচ্ছে; অথচ মেকানিক্যাল বিভাগের প্রকৌশলীদের কেন ট্রেনিংয়ে পাঠানো হচ্ছে না?’
১২৯২ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশের নদী খননের জন্য ড্রেজার ও যন্ত্রপাতি ক্রয় প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রকল্পটিতে ২১টি ড্রেজার, ১২টি টাগবোট, ২৩টি বিভিন্ন ধরনের এক্সাভেটর (ভেকু), ৩টি ফর্কলিফট, ৫টি বার্জ, ২টি স্পিডবোট কেনার কথা ছিল। কিন্তু ৯টি ড্রেজার, ৩টি টাগবোট, ৫টি বিভিন্ন ধরনের এক্সাভেটর (ভেকু), ৩টি ফর্কলিফট কিনতেই ৬৫১ কোটি ৫২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
জাহিদ ফারুক জানতে চান, ‘৯টি ড্রেজার ক্রয় করতেই যদি প্রকল্পটির অর্ধেক অর্থ ব্যয় হয়, তাহলে বাকি ১২টি ড্রেজারসহ অন্য সামগ্রী কীভাবে ক্রয় করা হবে? এই প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই প্রশ্ন তুলবেন।’ এ ছাড়া, ৫টি নতুন ড্রেজারবেইজ নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জমি বেদখল হলে কিংবা নিজের সম্পদ নষ্ট হলে যেমন কষ্ট লাগে, তেমনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার পরিদফতরের সম্পদ বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না; এই সম্পদকেও নিজের সম্পদ বলেই মনে করতে হবে।’







