গাজীপুরের কালীগঞ্জে নারীর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) উপজেলা চত্বরে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ’র আয়োজনে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাবেক মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মেহের আফরোজ চুমকি উপস্থিত নারী-পুরুষের কাছ থেকে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে করণীয় বিষয়সমূহ শোনেন। তিনি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ও স্বামীর সংসারে স্ত্রীদের নির্যাতনের নানা কারণ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি এ সব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভুলে একটি পরিবার যদি ক্ষতির শিকার হয়, যদি সংসার ভেঙে যায়—তবে তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
গণশুনানিতে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা, জনসাধারণ, নারী নেত্রী, সুশীল সমাজের নেতরা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা বাল্যবিয়ে বন্ধ না হওয়ার কারণ, সরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং স্বামীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়ে থানা থেকে কোনও ধরনের প্রতিকার না পাওয়ার তথ্য তুলে ধরেন।
তারা বলেন, আদালতে নোটারি পাবলিক করে অনেক অভিভাবক বাল্য বিয়ে দিয়ে থাকেন। নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিয়ে হওয়া অধিকাংশ ছেলেমেয়েদের বয়স থাকে ১৮ বছরের নিচে। এ প্রক্রিয়ার বিয়ে বন্ধ করতে না পারলে বাল্য বিয়ে বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব গোলাম কিবরিয়া, যুগ্ম সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।








